খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫
ইসরায়েলের গাজায় পুনরায় বিমান হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে অ্যান্টি-ইসরায়েল প্রতিবাদী গ্রুপগুলো হোয়াইট হাউস এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে সমাবেশ করছে।
বুধবার (১৯ মার্চ) অ্যান্টি-ইসরায়েল প্রতিবাদী গ্রুপগুলো হোয়াইট হাউস এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে সমাবেশ করছে।
ফিলিস্তিনি যুব আন্দোলন (একটি অ্যান্টি-ইসরায়েল সক্রিয়তামূলক গ্রুপ) ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, সান ফ্রান্সিসকো, ডালাস এবং লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ ঘোষণা করেছে।
গ্রুপটির নিউইয়র্ক শাখা টাইমস স্কোয়ারে একটি ভিড়ের ভিডিও শেয়ার করেছে, যেখানে তারা ‘জায়নিস্ট দখল শেষ করো’ স্লোগান দিচ্ছিল এবং ম্যানহাটনের মাধ্যমে মিছিল করতে করতে ‘সাম্রাজ্যবাদ পতিত হবে’ স্লোগান দিচ্ছিল।
হোয়াইট হাউসের সামনে, গ্রুপটি একটি ভিডিও পোস্ট করেছে যেখানে প্রতিবাদকারীরা ‘গাজা, ইয়েমেন, আমাদের গর্বিত কর, এই দখল ভেঙে দাও’ এবং ‘আমেরিকার যুদ্ধযন্ত্র থামাও’ স্লোগান দিচ্ছিল।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধাদের অতর্কিত হামলার জবাব দিতে ওই দিন থেকেই গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। মধ্যস্থতাকারী ৩ দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও ইরাকের ব্যাপক প্রচেষ্টার ফলে প্রায় ১৫ মাস ধরে ভয়াবহ অভিযানের পর গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি দিতে সম্মত হয় ইসরায়েল।
যে চুক্তির ভিত্তিতে ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল, সেটি তিন পর্বে বিভক্ত। প্রথম স্তরে হামাসের কব্জায় থাকা জিম্মি ও ইসরায়েলের কারাগারগুলোতে থাকা বন্দি বিনিময়ের পাশাপাশি গাজায় খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ স্বাভাবিক করার শর্ত ছিল। দ্বিতীয় স্তরের শর্ত ছিল যে অবশিষ্ট সব জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস এবং গাজা থেকে নিজেদের সেনাবাহিনীকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেবে ইসরায়েল।
চুক্তির প্রথম পর্বের মেয়াদ ছিল ৬ সপ্তাহ। সেই মেয়াদ সম্প্রতি শেষ হয়েছে; তারপর থেকে দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে সমস্যায় পড়েছে ইসরায়েল ও হামাস। কারণ হামাস চাইছে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, অন্যদিকে ইসরায়েলের আশঙ্কা— গাজা থেকে সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিয়ে অদূর ভবিষ্যতে নিজেদের সংগঠিত করে ফের ইসরায়েলে হামলা চালাবে হামাস।
এর মধ্যে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দ্বৈত নাগরিক এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সেনা সদস্য ইদান আলেক্সান্দারসহ চারজন দ্বৈত নাগরিকের মরদেহ ইসরায়েলকে ফেরত দেয় হামাস। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে ইদান আলেক্সান্দার ও বাকি ৩ জনকে ইচ্ছাকৃতভাবে খুন করেছে হামাস যোদ্ধারা, তবে হামাস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এই নিয়ে দু’পক্ষের টানাপোড়েনের মধ্যেই গত সোমবার রাতে গাজায় ফের সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ অভিযানে নিহত হয়েছেন চার শতাধিক ফিলিস্তিনি।
এদিকে মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) এক বার্তায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, এই হামলা কেবল ‘শুরু মাত্র’ এবং হামাসের সঙ্গে ভবিষ্যতে যাবতীয় আলোচনা হবে যুদ্ধের মধ্যে।
সূত্র: দ্য টাইমস অফ ইসরাইল, আনাদোলু এজেন্সি
খবরওয়ালা/আরডি