বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫
বগুড়ার তৈরি সাদা চিকন সেমাইয়ের চাহিদা বেড়ে এখন দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। বছরে দুই ঈদ ছাড়াও সারা বছর এ সেমাইয়ের কদর থাকে। ঈদ উপলক্ষে কয়েক কোটি টাকার সাদা চিকন সেমাইয়ের ব্যবসার আশা করছেন কারখানার মালিকরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, রোজার এক থেকে দেড় মাস আগে থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে চিকন সেমাইয়ের অর্ডার আসে। এ বছর ময়দার দাম কম হওয়ায় প্রতি কেজি চিকন সেমাই ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে এ শিল্পকে ঘিরে জেলার আশপাশে বিভিন্ন উপজেলায় গড়ে উঠেছে সেমাই কারখানা। আধুনিক মেশিনে মানসম্মত উপায়ে তৈরি হচ্ছে এসব সাদা সেমাই।
বগুড়া জেলার সদর, শাজাহানপুর, গাবতলী, কাহালু উপজেলায় গড়ে উঠেছে সেমাই পল্লী। এসব উপজেলার গ্রামগুলোতে দুই থেকে আড়াই শতাধিক কারখানা গড়ে উঠেছে। তবে গত বছর ময়দার দাম ও শ্রমিক মজুরি বেড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ কারখানা সাদা সেমাই তৈরি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। ফলে চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করতে পারেনি। অনেক ব্যবসায়ীকে লোকসান গুনতে হয়েছিল। তবে এ বছর অন্যান্য জিনিসের দাম বাড়লেও ময়দার দাম কিছুটা কমেছে। যার ফলে অনেক কারখানাই নতুন করে চালু হয়েছে। রমজানের আগে থেকেই এসব কারখানায় চিকন সেমাই তৈরি শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার সেমাই পল্লী খ্যাত মাদলা, বেজোড়া, শ্যাওলা কাথিপাড়া, কালসিমাটি, রবিবাড়িয়াসহ আশপাশের প্রায় ৮ থেকে ১০টি গ্রামের নারীদের হাতে প্রায় ৫০ বছর ধরে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু চিকন সেমাই। এই এলাকার চিকন সেমাই এখন দেশ জুড়ে খ্যাত। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন পাইকাররা নিয়ে যাচ্ছে সাদা সেমাই। বাণিজ্যিক-ভাবে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সেমাই কারখানার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছেন গ্রামগুলোর নারী-পুরুষেরা। প্রতি বছর ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে পাল্লা দিয়ে কাজ চলে সেমাই পল্লীর কারিগরদের। দিনরাত তৈরি করেন চিকন সাদা সেমাই।
বেজোড়ার কারখানা মালিক জাহিদ জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর ময়দার দাম বস্তা প্রতি (৩৭ কেজি) কমেছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। গত বছর ৩৭ কেজির ময়দার বস্তার দাম ছিল ১৮০০ থেকে ১৯০০ টাকা। এবছর দাম কমে ১৪০০ টাকা বস্তা হয়েছে। যে কারণে সেমাইয়ের দামও কমেছে। প্রতি কেজি সাদা সেমাই পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা দরে। তবে ময়দার দাম কমলেও অন্যান্য জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমে গেছে।
তিনি আরও জানান, তাদের তৈরি সাদা সেমাই দেশজুড়ে খ্যাত। দেশের বিভিন্ন জেলা ঢাকা, সৈয়দপুর, দিনাজপুর, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা থেকে পাইকার এসে এসব সাদা সেমাই নিয়ে যায়। তবে চুয়াডাঙ্গা জেলার ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি সেমাই সরবরাহ করে।
খবরওয়ালা/এসআর