খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫
তিন মাসের বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস, মাতৃত্বকালীন ছুটির টাকাসহ বিভিন্ন পাওনার দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে মিছিল নিয়ে গেলে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধলে প্রায় ৪০ জন শ্রমিক ও পুলিশ সদস্য আহত হন।
মঙ্গলবার(২৫ মার্চ) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব ও সচিবালয়ের লিংক রোডের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনকারীদের মধ্যে টিএনজেড অ্যাপারেলস, অ্যাপারেল প্লাস ইকো লিমিটেড, রোর ফ্যাশন, স্টাইল ক্রাফট গার্মেন্টস ও ডার্ড কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডের পাঁচ শতাধিক শ্রমিক ও কর্মচারী রয়েছেন।
টানা তিন দিন ধরে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা। সোমবার তারা নয়াপল্টনের সামনে সড়ক অবরোধ করলেও আজ তারা শ্রম ভবন থেকে সচিবালয় অভিমুখে মিছিল নিয়ে যান। বিজয়নগরের সামনে পুলিশ তাদের প্রথমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও সেই বাধা উপেক্ষা করে তারা সামনে এগিয়ে যান। পরে পল্টন পার হয়ে তোপখানা রোডে প্রবেশ করতে নিলে আবারও পুলিশ তাদের বাধা দেয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বেতন-বোনাস না পেলে ঈদের দিন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।
গার্মেন্টস শ্রমিক টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ বলেন, সচিবালয়ের সামনে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে আমাদের ৩০ থেকে ৩৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
শাহবাগ থানার পরিদর্শক সরদার বুলবুল আহমেদ জানান, শ্রমিকদের হামলায় আমাদের পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তারা রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদের মধ্যে ফজলে রাব্বি নামের এক সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালিদ মনসুর বলেন, পুলিশের ব্যারিকেড থেকে দূরে থাকতেই শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। এতে আমাদের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছি, তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছি, পরে তারা যে যার মতো চলে গেছেন।
এদিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আগামী বৃহস্পতিবারের (২৭ মার্চ) মধ্যে শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করতে হবে। পাওনা শোধ না করা পর্যন্ত পোশাক মালিকদের বিদেশ যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।বৃহস্পতিবারের পর মালিকদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে বাংলাদেশে বিরুদ্ধে মার্চের মধ্যে মামলা করবে আইএলও।
খবরওয়ালা/এমবি