খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫
গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফা শহরকে বাকি গাজা ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করতে নতুন সামরিক করিডোর স্থাপন করছে ইসরায়েল। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইসরায়েলি বাহিনী রাফা ও খান ইউনিসে ব্যাপকভাবে হামলা চালাচ্ছে। যার ফলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ মানবিক সংকট। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি ‘মোরাগ করিডোর’ নামে একটি নতুন সামরিক করিডোর গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন, যা পূর্ব থেকে পশ্চিম গাজা পর্যন্ত বিস্তৃত।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, এসব হামলায় নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ভয়াবহ গণহত্যা চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে রাফা শহরের ৯০ শতাংশেরও বেশি ঘরবাড়ি, ২২টি পানির কূপের মধ্যে ২২টিই, ৮৫ শতাংশ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে ১২টি চিকিৎসাকেন্দ্রও।
আলজাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খোদারি জানিয়েছেন, রাফা ও খান ইউনিসের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থান নেওয়া ইসরায়েলি সেনারা যেকোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে। বর্তমানে ফিলিস্তিনিদের একমাত্র নিরাপদ পথ বলে বিবেচিত হচ্ছে উপকূলবর্তী আল-রাশিদ করিডোর। এই করিডোর ব্যবহার করেই বহু মানুষ খান ইউনিস ও দেইর আল-বালাহ এলাকায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের এই করিডোর নির্মাণ কৌশল পরিকল্পিতভাবে গাজা ভূখণ্ডকে বিভক্ত করছে এবং এর ফলে মানবিক পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ
গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে হোয়াইট হাউসের সামনে হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছেন। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনি ন্যাশনাল অ্যান্ড ইসলামিক ফোর্সেস গ্রুপ বিশ্বব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে, যাতে গাজায় চলমান ধ্বংসযজ্ঞ ও হতাহতের চিত্র তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বীকারোক্তি: স্বাস্থ্যকর্মী হত্যায় ভুল করেছে আইডিএফ
২৩ মার্চ রাফার কাছে একটি অ্যাম্বুলেন্স, জাতিসংঘের গাড়ি ও অগ্নিনির্বাপক ট্রাকের বহরের ওপর গুলি চালিয়ে ১৫ জন জরুরি সেবাকর্মীকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। সামরিক বাহিনী শুরুতে অভিযানের যৌক্তিকতা দেখালেও পরে স্বীকার করে যে, গুলিবর্ষণের সময় সংশ্লিষ্টরা নিরস্ত্র ছিলেন। মোবাইল ফুটেজে দেখা যায়, সেবাকর্মীরা আহতদের সহায়তায় কাজ করছিলেন এবং গাড়িতে আলো জ্বলছিল। যদিও আইডিএফ দাবি করেছে, নিহতদের মধ্যে ছয়জন হামাসের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তবে তারা এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।
ব্রিটিশ এমপিদের আটকে কূটনৈতিক উত্তেজনা
ইসরায়েলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি দুই ব্রিটিশ এমপি ইউন ইয়ং এবং আবতিসাম মোহাম্মদকে। বিমানবন্দরেই তাদের আটকে রেখে ফেরত পাঠানো হয়। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, “এ ধরনের আচরণ মেনে নেওয়া যায় না,” এবং তিনি বিষয়টিকে ব্রিটেন-ইসরায়েল কূটনৈতিক সম্পর্কে অশনি সংকেত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
খবরওয়ালা/জেআর