খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সাবেক সভাপতি দিলীপ ঘোষ শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিয়ে করেছেন দলের সহকর্মী রিঙ্কু মজুমদারকে। প্রায় ৬০ বছর বয়সে বিয়ে করা দিলীপ ঘোষের এই সিদ্ধান্ত সামাজিক এবং রাজনৈতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু দুটি বিষয়—প্রথমত, বয়সে এত বড় এক সিদ্ধান্ত, এবং দ্বিতীয়ত, তিনি ছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর ‘প্রচারক’, যেখানে বিয়ে না করার নিয়ম দীর্ঘদিনের।
১৯৮৪ সাল থেকে আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত থাকা দিলীপ ঘোষ দীর্ঘদিন প্রচারক হিসেবে কাজ করেছেন। তবে ২০১৫ সালে বিজেপির রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি আর প্রচারক হিসেবে কাজ করেননি। আরএসএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন প্রচারককে সংগঠনের প্রতি সম্পূর্ণ নিবেদিত থাকতে হয়, এবং পরিবার বা বিয়ে তাদের দায়বদ্ধতার পরিধি বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হয়।
আরএসএসের পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলের নেতা ড. জিষ্ণু বসু জানান, প্রচারকের কাজের সময় ও শ্রম সংগঠনের জন্য নিবেদিত থাকতে হয়, তাই বিয়ে না করার নিয়ম পুরোনো। এ নিয়মটি দ্বিতীয় সর-সংঘচালক মাধব গোলওয়ালকরের সময় থেকেই প্রবর্তিত হয়, যারা কঠোর ব্রহ্মচর্যের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন।
দিলীপ ঘোষের বিয়েতে আরএসএস বা বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি জানানো হয়নি। বিজেপি নেতাদের দাবি, দিলীপ ঘোষের মা বহুদিন ধরেই তার বিয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্রী খুঁজছিলেন এবং এভাবেই রিঙ্কু মজুমদারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতা সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতিতে বিয়ের অনুষ্ঠানটি ঘরোয়া পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
আরএসএসের প্রচারকরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজ্যে রাজনৈতিক জীবনে যুক্ত হয়ে পরে সংসারী হয়েছেন। যেমন, পশ্চিমবঙ্গের কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, অরবিন্দ মেনন, এবং মহারাষ্ট্র বা মধ্যপ্রদেশের বেশ কিছু প্রচারকও পরবর্তীতে সংসারী হয়েছেন।
আরএসএসে নারীদের জন্য পৃথক একটি সংগঠন রয়েছে, যা ‘রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি’ নামে পরিচিত। এখানে নারীরা আলাদাভাবে সংগঠিত হয়ে কাজ করে, তবে আরএসএসের মূল সংগঠনে নারীদের সদস্যপদ নেই।
সব মিলিয়ে, দিলীপ ঘোষের বিয়েকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠলেও আরএসএস ও বিজেপি নেতারা বলছেন, এই ঘটনা তাদের জন্য নতুন কিছু নয় এবং তা নিয়ে সংগঠনের ভেতরে কোনো উত্তেজনা বা বিস্ময়ের জায়গা নেই।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
খবরওয়ালা/আরডি