খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫
ভারতীয় নিষেধাজ্ঞা, দেশের অভ্যন্তরে পণ্য বয়কট, রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে ভারত থেকে আমদানি কমেছে। চলতি বছরের মার্চে বাংলাদেশে ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ডলারের ভারতীয় পণ্য এসেছে। গত বছরের একই সময় এসেছিল ৮৯ কোটি ৯১ লাখ ডলারের পণ্য। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ভারত থেকে আমদানি কমেছে ৮৪.৮৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে পটপরিবর্তনের পর থেকে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে চলছে টানাপড়েন। ভারতে বাংলাদেশিদের ভ্রমণ ভিসা বাতিল, সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা এবং সব শেষে ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে ভারতের বন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে বাংলাদেশের পণ্য যাওয়ার ব্যবস্থা প্রত্যাহার করেছে ভারত। এদিকে ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে ৩৫ পণ্য আমদানি বন্ধ করেছে বাংলাদেশ সরকার। এর মাধ্যমে ভারতই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক বিভেদ বা দূরত্ব থেকে বাণিজ্যকে মুক্ত রাখতে হবে। অনভিপ্রেত ঘটনার প্রভাব যদি আমদানি-রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার মতো পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়, ক্ষতিটা ভারতেরই হবে। কেননা প্রতিবছর বাংলাদেশ ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য ও সেবা ভারত থেকে আমদানি করছে।
রপ্তানি করছে দুই বিলিয়ন ডলারের পণ্য। এর বিঘ্ন ঘটলে ভারত সেই বৈদেশিক মুদ্রা থেকে বঞ্চিত হবে। অন্যদিকে রপ্তানি বন্ধ করলে সাময়িক সময়ের জন্য বাংলাদেশ কিছুটা চাপে পড়লেও আমদানির নতুন বিকল্প উৎস ঠিকই খুঁজে পেয়ে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত থেকে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ প্রতি তিন মাসে বা এক প্রান্তিকে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলার।
শুধু আমদানি নয়, ভারতে বাংলাদেশি ক্রেডিট কার্ডধারীদের লেনদেন নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে লেনদেন নেমে এসেছে মাত্র ২৯ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৩.১৫ শতাংশ কম। অথচ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ডে খরচ ছিল ১০৮ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সখ্য কমেছে। তারই প্রতিফলন আমদানি হ্রাস। ভারত থেকে খাদ্যদ্রব্য, শিল্পের কাঁচামালসহ আরো নানা পণ্য আমদানি করা হতো। এখন আমাদের বিকল্প উৎস সন্ধান করতে হবে। এতে আমদানি খরচ বাড়তে পারে। যত দিন পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের উন্নতি না হয় তত দিন অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। এ রকম বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে উভয় দেশেরই ক্ষতি।’
খবরওয়ালা/এমএজেড