খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকার গঠন করলে বিএনপি দেশের শিক্ষিত বেকারদের জন্য একটি বেকার ভাতা চালু করবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, যাঁরা এখনো চাকরি পাননি, তাঁদের জন্য এক বছরের মেয়াদে একটি শিক্ষিত বেকার ভাতার ব্যবস্থা করার। এই সময়ের মধ্যে সরকার তাঁদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেবে, পাশাপাশি বেকাররাও নিজেদের কর্মসংস্থানের চেষ্টা করবেন।’
বুধবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে রংপুর, নীলফামারী ও সৈয়দপুর সাংগঠনিক জেলার নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’ বিষয়ক এক ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণ কর্মশালায় যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিগত সময়ে সরকারি ও আধা সরকারি চাকরিতে দলীয়করণ হয়েছে। বিএনপিসহ কিছু রাজনৈতিক দলের তরুণ নেতারা, যারা আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই বয়সের কারণে চাকরির সুযোগ হারিয়েছেন। এটা শুধু ছাত্রদলের নয়, আরও অনেক মানুষ এই বাস্তবতার শিকার। যাঁরা স্বৈরাচারবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন, সরকারের পক্ষে না থাকায় তাঁদেরও চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’
স্বাস্থ্যবিমা চালুর প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ জনসংখ্যার বিচারে একটি বড় দেশ। আমার মনে হয় বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা ২০ কোটির কম নয়। এত মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে গেলে বিপুল বাজেট প্রয়োজন। উন্নত দেশগুলোর মতো আমাদেরও স্বাস্থ্যনীতি থাকা দরকার, কিন্তু ওরাও (ইউরোপ-যুক্তরাজ্য) এই খাতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। ওদের মতো আমাদের দেশেও অনেকে সেলফ-এমপ্লয়েড। এই মুহূর্তে আমরা সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা চালু করতে পারব কি না, তা বলা কঠিন। তবে ইউরোপের দেশগুলোর মতো স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দিতে হবে, যাতে কম মানুষ অসুস্থ হয়।’
নারীদের জন্য সংরক্ষিত সংসদীয় আসন ৫০ থেকে ১০০ করার বিষয়ে মহিলা দলের এক নেত্রীর প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া নারীর ক্ষমতায়নে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। আমরা প্রস্তাব করেছি, বর্তমান ৫০টি সংরক্ষিত আসন বাড়িয়ে ১০০ করা হোক। এটা নিয়ে গণতান্ত্রিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটি নির্বাচিত সংসদের আলোচনায় গৃহীত হবে, কিংবা আলাদা বিল পাস করে বাস্তবায়ন করা হবে।’
সংখ্যালঘুদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণের দাবি প্রসঙ্গে সৈয়দপুর বিএনপির সহসভাপতি সুমিত কুমার আগারওয়ালার প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল হিসেবে কোনো নাগরিককে ধর্ম বা বর্ণ দিয়ে নয়, বরং বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করি। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগরিষ্ঠ কোনো ভেদাভেদ নেই। রাষ্ট্র এবং সংবিধান যেভাবে সমান অধিকার নিশ্চিত করে, আমরা সেভাবেই বিশ্বাস করি।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন ও রংপুর বিভাগের অর্থনৈতিক বৈষম্য বিষয়ে রংপুর মহানগর বিএনপির ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি জাহাঙ্গীর ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘তিন কোটিরও বেশি মানুষ তিস্তার ওপর নির্ভরশীল। তিস্তা আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। গত ১০-১৫ বছর ধরে তিস্তা নিয়ে রাজনীতি হয়েছে, কিন্তু মানুষের জীবনে কোনো বাস্তব পরিবর্তন আসেনি। লালমনিরহাটে বিএনপির আয়োজিত ‘তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনই প্রমাণ করে যে আমরা মানুষের স্বার্থেই কাজ করছি। সরকারে এলে যেভাবেই হোক, জনগণের কল্যাণে আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।’
একজন কৃষকের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রতি বছর একজন কৃষককে অন্তত একটি ফসলের জন্য সম্পূর্ণ সরকারি সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যাঁরা বছরে দুই বা তিন ধরনের ফসল করেন, তাঁদের একটি ফসলে ফুল সাপোর্ট দেওয়া হবে। প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের দিয়ে আমরা এই প্রকল্প শুরু করব। যাঁদের জমির পরিমাণ ৭ থেকে ১০ বিঘার বেশি, তাঁদের এ সুবিধা নাও লাগতে পারে বলে মনে করি।’
এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিএনপির রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক এবং নীতিমালার আলোকে নেতারা প্রশ্ন করেন এবং তারেক রহমান বিস্তারিতভাবে তাঁদের উত্তর দেন।
খবরওয়ালা/আরডি