খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫
দেশের ছয়টি জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন সময় এসব মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাসিন্দা।
জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত খবর:
কুমিল্লা
কুমিল্লার বরুড়া ও মুরাদনগর উপজেলায় বজ্রপাতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও একজন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুরাদনগরের বাঙ্গরা বাজার থানার কোরবানপুর পূর্বপাড়া কবরস্থানের পাশে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে দুই কৃষক- জুয়েল ভূঁইয়া (৩৫) ও নিখিল দেবনাথ (৬০) মারা যান।
অন্যদিকে দুপুরে বরুড়ার খোশবাস ইউনিয়নের পয়ালগুচ্ছ গ্রামে মাঠে ঘুড়ি ওড়ানোর সময় বজ্রপাতে মারা যায় বড় হরিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির দুই ছাত্র—ফাহাদ হোসেন (১৩) ও সায়মন হোসেন।
বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক ও বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম ও মিঠামইন উপজেলায় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
অষ্টগ্রামের কলমা ইউনিয়নের হালালপুর গ্রামের ইন্দ্রজিত দাস (৩৫) এবং খয়েরপুর গ্রামের স্বাধীন মিয়া (১৪) হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারান।
মিঠামইনের কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের রানীগঞ্জ গ্রামের ফুলেছা বেগম (৬৫) নিজের খলায় ধানের খড় ঢাকতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান।
অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার আটগাঁও গ্রামে বজ্রপাতে রিমন তালুকদার (২২) নামের এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।
সকালে বুড়িগাঙ্গাল হাওরে গরুকে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে গিয়ে বৃষ্টির সময় বজ্রপাতের শিকার হন তিনি। ঘটনাস্থলেই রিমন ও তার সাথে থাকা গবাদিপশুর মৃত্যু হয়।
ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেন শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
চাঁদপুর
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় বজ্রপাতের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান বিশকা রানী সরকার (৪৫)।
সোমবার দুপুরে উত্তর কচুয়া ইউনিয়নের নাহারা গ্রামে ধানক্ষেতে কাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরে বজ্রপাতের সরাসরি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি; বজ্রপাতের শব্দে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কচুয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, মৃত বিশকা রানী সরকারের শরীরে বজ্রপাতের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায় নাই। তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে । মৃতদেহ নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। এ মৃত্যু নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ না থাকায় সামাজিকভাবে সৎকারের জন্য অনুমতি প্রদান করা হয়।
নেত্রকোণা
নেত্রকোণার মদন উপজেলার তিয়শ্রী গ্রামে ভোরে বজ্রপাতে মারা যান আরাফাত মিয়া (১০), যিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন। নিজ বাড়ির সামনের মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অলিদুজ্জামান জানান, আরাফাত নামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর বজ্রপাতে মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তার পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।
উল্লেখ্য, নিহতদের পরিবারকে সরকারি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে এক কৃষক মারা গেছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও একজন। সোমবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের চর-মরিচাকান্দি বিলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মৃত মানিক মিয়া (৬০) চর-মরিচাকান্দি বিলপাড়ার বাসিন্দা। আহত হয়েছেন হানিফ মিয়া (৬৫)।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদুল আলম চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
খবরওয়ালা/আরডি