খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (রুয়া) পুনর্মিলনী ও কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ মে) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রুয়া’র এডহক কমিটির আহ্বায়ক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান এক চিঠির মাধ্যমে পুনর্মিলনী ও কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন স্থগিত করেন।
চিঠিতে বলা হয়, আজ এডহক কমিটির জরুরি সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের প্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামী ৯ মে রুয়া’র পুনর্মিলনী ও আগামী ১০ মে রুয়া’র কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য এডহক কমিটি রুয়া’র সকল সম্মানিত সদস্যদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হয়।
প্রসঙ্গত, বুধবার (৩০ এপ্রিল) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন রুয়ার প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক নূরুল হোসেন চৌধুরি এবং কমিশনার অধ্যাপক মো. ফজলুল হক পদত্যাগ করেন। এর ফলে নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার এডহক কমিটি এক জরুরি সভা করে। সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের প্রেক্ষিতে রুয়া’র পুনর্মিলনী ও কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন স্থগিত করা হয়।
অন্যদিকে, গঠনতন্ত্র অমান্য করার অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (রুয়া) নির্বাচন বর্জন করেন জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী প্রাক্তনীদের একাংশ। গত ২৪ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) গভীর রাতে এক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপিপন্থি প্রাক্তনী অ্যাডভোকেট নূর মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন।
বিএনপিপন্থি সাবেক শিক্ষার্থীদের একাংশ ঘোষণা দিয়েছিল, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা না হলে আদালতের দ্বারস্থ হবেন তারা। তবে আদালতের দ্বারস্ত হয়েও তারা ব্যর্থ হন। এরপর থেকে নির্বাচন বানচাল করতে এই চক্রটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, নিবার্চন কমিশন এবং ভোটারদের উপর অব্যাহতভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতেই পদত্যাগপত্র জমা দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং একজন কমিশনার। পুরো বিষয়টিকে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা অ্যালামনাইরা।
বিএনপিপন্থি সাবেক শিক্ষার্থীদের নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রাবির প্রাক্তনী এবং সভাপতি প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছিলেন, আজকের এই পরিস্থিতি তৈরির পেছনে দায়ী বিএনপিপন্থি সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।
এর আগে, সার্বিক বিষয়ে রাবি উপ-উপাচার্য ও রুয়া অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. ফরিদ উদ্দিন খান বলেছিলেন, এবারের রুয়া নির্বাচন একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে হচ্ছে, যা গঠনতন্ত্র মেনে হচ্ছে না। বরং এই নির্বাচন হচ্ছে গত ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ সভার নির্দেশনা অনুযায়ী। এখানে কোনো সদস্য এককভাবে নির্বাচন থেকে বিরত থাকতে পারেন। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের নির্বাচন বয়কট করার সুযোগ নেই।
উপাচার্য ড. সালেহ হাসান নকীব বলেছিলেন, যে অ্যাডহক কমিটি আছে, তাদের কাজ হলো সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে, নির্বাচিত কমিটির হাতে তুলে দেওয়া। ব্যক্তিগতভাবে আমরা এটাকে মোটেই পলিটিক্যাল চেহারায় দেখতে চাই না। তিনি আরও বলেছিলেন, যেকোনো মূল্যে রুয়া নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে।
কিন্তু অবশেষে রুয়া’র পুনর্মিলনী ও কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
খবরওয়ালা/আরডি