বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ মে ২০২৫
যমুনা নদীর বুকজুড়ে জেগে ওঠা চর যেন এখন আর শুধুই বালু আর ধু-ধু প্রান্তর নয়—এ যেন দুধের রাজ্য! প্রতিদিন ভোর হতেই শুরু হয় মহিষ আর রাখালদের দিন। দুধ দোয়ানো, মাঠে চরানো আর বিক্রির ব্যস্ততায় মুখরিত থাকে পুরো এলাকা।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, ধুনট উপজেলার যমুনার চরে গড়ে উঠেছে শত শত মহিষের বাথান। খামারিরা বলছেন, মহিষের দুধই বদলে দিচ্ছে চরের অর্থনৈতিক চিত্র।
চরের বালুচরে অস্থায়ী ঘর তুলে বসবাস করছেন রাখালরা। আশেপাশেই ছোট-বড় বাথান। প্রতিটি বাথানে ৫০ থেকে ১০০টি পর্যন্ত মহিষ রয়েছে। খামারিরা জানান, এখানকার ঘাস খাওয়ানো হয় মহিষগুলোকে, আশপাশে রয়েছে নদী—মহিষ গোসল করানো বা পানি পান করানোয় অসুবিধা হয় না।
সারিয়াকান্দির বাটির চর এলাকার খামারি রহমান বলেন, “আমার বাথানে ৩০টি দুধেল মহিষ ও ২৫টি বাছুর রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১৪০ লিটার দুধ দোহাই। পাইকাররা নিজেরাই এসে দুধ কিনে নিয়ে যায়।” তিনি জানান, এই চরে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ লিটার দুধ সংগ্রহ হয়।
বগুড়ার গাবতলীর কালাইহাটা গ্রাম থেকে আসা খামারি পিজুস বলেন, “আমাদের এলাকায় ঘাস কম, তাই চরে এসেছি। ৮-৯ জন মিলে একসঙ্গে বাথান করেছি। নদী পাশে, ঘাসও প্রচুর—খামার চালানো সহজ।” তিনি জানান, বছরের অন্তত আট মাস তারা মহিষ নিয়ে চরে থাকেন।
বাথানের রাখাল আবদুস সবুজ বলেন, “একটি মহিষ দিনে দুইবারে ৭–১০ কেজি পর্যন্ত দুধ দেয়। দুধ বিক্রি করি ৫০–৫৫ টাকা কেজি দরে। মিল্ক ভিটা আর ঘোষেরা নৌকায় এসে দুধ নিয়ে যায়।”
চরের মানুষদের কাছে এই মহিষ পালন শুধু অর্থনৈতিক চাকা ঘোরানোর উপায় নয়, এটি এখন তাদের আত্মমর্যাদার প্রতীক। কাজলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম রফিকুল ইসলাম জানান, “প্রতিবছরই পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে শত শত মহিষ নিয়ে আসেন খামারিরা। এখানকার পরিবেশ মহিষ পালনের জন্য দারুণ উপযোগী।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারাও বলছেন, এই চরাঞ্চলে মহিষ পালন করে অনেকেই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। নদীভাঙন, বন্যা আর দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে যাওয়া মানুষগুলোর জীবনে এখন দুধের সুবাস—যা বদলে দিচ্ছে যমুনা পাড়ের জীবন।
খবরওয়ালা/আশ