খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৪ মে ২০২৫
ভারতীয় সেনাবাহিনী শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান বা ড্রোন দ্রুত ও নিখুঁতভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম এবং কাঁধে বহনযোগ্য দেশীয় প্রযুক্তির বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র ছয় কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে থাকা শত্রু বিমান বা ড্রোনকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে, যা ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করবে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডারের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৪৮টি লঞ্চার, ৪৮টি রাত্রিকালীন অত্যাধুনিক চশমা, ৮৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং একটি স্বল্পপাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষার জন্য কেন্দ্র গড়ার দরপত্র আহ্বান করেছে। আগামী ২০ মে পর্যন্ত ইচ্ছুক সংস্থাগুলিকে দরপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ভারতের সেনাবাহিনীতে আকাশপথ দিয়ে আসা সব ধরনের হুমকি প্রতিরোধের জন্য ম্যান পোর্টেবল সিস্টেমের ঘাটতি রয়েছে। সেই ঘাটতি পূরণের জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ব্যবস্থার (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) জন্য ‘অ্যান্টি-জ্যামিং’ বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে, অর্থাৎ এমন ব্যবস্থা থাকতে হবে যা নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত অবস্থাতেও কাজ করতে সক্ষম।
এ ছাড়া, সব ধরনের আবহাওয়া পরিস্থিতি মোকাবিলা করার ক্ষমতাও থাকতে হবে। সমতল, মরুভূমি বা উচ্চভূমি—এ সব জায়গায় এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হতে পারে। ভারতের সেনাবাহিনী পূর্ব লাদাখে চীনের সঙ্গে সামরিক লড়াইয়ের সময় এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল।
গত বছর ভারতের অস্ত্রভাণ্ডারকে শক্তিশালী করার জন্য রাশিয়া স্বল্পপাল্লার বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ‘ইগলা-এস’ সরবরাহ করেছিল। রাশিয়ার সঙ্গে ২০২৩ সালের শেষে নতুন চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম দফায় ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ২৪টি ‘ইগলা-এস’ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছেছে।
ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক বর্তমানে অস্থির অবস্থায় রয়েছে। পেহেলগাম কাণ্ডের পর পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত দাবি করেছে, এই হামলার পেছনে পাকিস্তানের হাত রয়েছে। তবে পাকিস্তান সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা হয়নি। বরং সীমান্ত এবং আরব সাগরে শক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এই আবহে ভারত নতুন অস্ত্র ক্রয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
খবরওয়ালা/আরডি