খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ মে ২০২৫
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে, ভারতের বিমান হামলা ও পাকিস্তানের পাল্টা আক্রমণের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ভারত ও পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে হামলার জেরে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং দুটি দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলে বিশাল প্রভাব পড়েছে। এই সংঘাত শুধু দক্ষিণ এশিয়ার জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। এই প্রতিবেদনে, চলমান সংঘাতের বিস্তারিত পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং এর প্রভাব সম্পর্কে তুলে ধরা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৬ মে) মধ্যরাত থেকে পাকিস্তানের ভেতরে ভারতের সামরিক অভিযান শুরু হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান পাল্টা আক্রমণে যায়। বুধবার (৭ মে) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদসংস্থার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনাকে ‘গুরুতর উদ্বেগের’ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রাশিয়া এই সামরিক সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং তুরস্ক পাকিস্তান ও পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে ভারতের হামলাকে ‘যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছে।
ফ্লাইট বাতিলের প্রভাব
বিমান হামলার পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানে প্রায় সাড়ে পাঁচশ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পাকিস্তানে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের ১৬ শতাংশ এবং ভারতের প্রায় ৩ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটরাডার২৪। এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশি বিমানসংস্থাগুলো পাকিস্তানের আকাশসীমা এড়িয়ে চলাচল করছে, ফলে বিভিন্ন ফ্লাইটে সময় বাড়ছে।
অপর্যাপ্ত তথ্য ও প্রাণহানি
ভারত দাবি করেছে, পাকিস্তানের পাল্টা হামলায় ভারত-শাসিত কাশ্মীরে ১৫ জন নিহত ও ৪৩ জন আহত হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান জানিয়েছে, ভারতের বিমান হামলায় তাদের ২৬ জন নাগরিক নিহত হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ দেশটির পার্লামেন্টে দাবি করেছেন, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী পাঁচটি ভারতীয় বিমান ভূপাতিত করেছে।
গণমাধ্যমে প্রতিবেদন ও সংঘাতের প্রকৃতি
ভারত জানিয়েছে, তারা পাকিস্তান ও পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে নয়টি স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে, যেগুলিকে তারা ‘সন্ত্রাসবাদী অবকাঠামো’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, ভারত পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে ছয়টি স্থানে ২৪টি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যাকে তারা ‘কাপুরুষোচিত হামলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
পেহেলগামে হামলার পর উত্তেজনা
গত মাসে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে একটি বন্দুকধারী হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। ভারত অভিযোগ করেছে, এই হামলায় পাকিস্তানের যোগসূত্র ছিল, তবে পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পেহেলগামে হামলার পর ভারত ও পাকিস্তান একে অপরকে ক্ষতিপূরণমূলক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে, যার মধ্যে সীমান্ত বন্ধ ও নদীর পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিত রয়েছে।
এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ এশিয়ার আকাশপথের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর আরও জোরালো প্রভাব ফেলবে, এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: বিবিসি বাংলা, রয়টার্স, আল জাজিরা
খবরওয়ালা/আরডি