খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ মে ২০২৫
ভারতের সঙ্গে চলমান সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। তারা দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতির অনুরোধ পাকিস্তান নয়, বরং ভারতই করেছে। একইসঙ্গে তারা জানায়, পাকিস্তানে কোনো ধরনের আগ্রাসন ঘটলে জবাব হবে ‘চূড়ান্ত, কঠোর ও নির্দয়’।
সোমবার (১২ মে) জিও নিউজ এক প্রতিবেদনে জানায়, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর এয়ার ভাইস মার্শাল আওরঙ্গজেব আহমেদ এবং নৌবাহিনীর ভাইস অ্যাডমিরাল রাজা রব নেওয়াজ।
সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল চৌধুরী বলেন, ‘পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব বা ভূখণ্ড লঙ্ঘিত হলে প্রতিক্রিয়া হবে ব্যাপক ও চূড়ান্ত।’ তিনি দাবি করেন, ৬ ও ৭ মে রাতের হামলার পর ভারত যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানায়, তবে পাকিস্তান তাৎক্ষণিকভাবে সেই অনুরোধে সাড়া দেয়নি এবং প্রতিশোধমূলক হামলার পরই আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, ১০ মে ‘বুনইয়ান উল মারসুস’ নামের এক সামরিক অভিযানে পাকিস্তান ভারতের মূল ভূখণ্ড ও অধিকৃত কাশ্মীরে ২৬টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব টার্গেটের মধ্যে ছিল বিমানঘাঁটি, ব্রাহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার স্টেশন, সামরিক সদরদপ্তর, লজিস্টিক ঘাঁটি এবং গোলাবারুদ ভাণ্ডার।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দাবি, এসব হামলায় ভারতের সামরিক স্থাপনাগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিহ্নিত কিছু সামরিক ঘাঁটি সাদা পতাকা তুলে সংঘাত বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছে বলেও তারা দাবি করে।
জেনারেল চৌধুরী আরও বলেন, ‘পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে সফল সাইবার হামলাও চালিয়েছে, যা ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবকাঠামোকে সাময়িকভাবে অচল করে দেয়।’
তিনি বলেন, ‘ভারতীয় সেনাবাহিনীর আগ্রাসনের জবাব আমরা কঠোরভাবে দিয়েছি। পাকিস্তানের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা যেকোনো প্রয়োজনে প্রস্তুত।’
সূত্র: জিও
খবরওয়ালা/আরডি