খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ মে ২০২৫
আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তে দেশের জনগণ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের অধিকার খর্ব করে এসেছে, তাদের সন্ত্রাসী ও নিপীড়নমূলক আচরণের বিরুদ্ধে জনগণের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল।’
সোমবার (১২ মে) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।
প্রেস সচিব জানান, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে এবং তাদের সমর্থনও পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ এই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল, তাই কোথাও কোনো প্রতিবাদ বা আন্দোলন হয়নি।’
৯ মাস পর নিষিদ্ধ করার কারণ জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তে সময় লেগেছে কারণ মানুষ চেয়েছিল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অন্তত অনুশোচনা দেখুক। কিন্তু গত ৯ মাসে, দুই হাজার মানুষ মারা গেলেও তারা কোনো অনুশোচনা দেখায়নি।’
জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে এক প্রশ্নে শফিকুল আলম বলেন, ‘২০১২ সালেই আওয়ামী লীগ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল। আমাদের সরকারের লক্ষ্য ছিল সাম্প্রতিক সময়ের অপরাধের ওপর ভিত্তি করে পদক্ষেপ নেওয়া। একাত্তরকে আমরা পুরোপুরি ধারণ করি, তবে বর্তমানের দায় আগে দেখতে হবে।’
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হলেও ১৪ দলের ভবিষ্যৎ কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের ভূমিকা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, অন্য দলগুলোর নাম আসেনি।’
গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘আমরা কাউকে মুখ বন্ধ করতে বলছি না। মিডিয়া হাউসও বন্ধ করা হবে না। তবে মিথ্যা লিখবেন না।’ তিনি সাংবাদিকদের আহ্বান জানান, ‘যদি আমাদের কোনো ব্যর্থতা থাকে, খোলামেলাভাবে লিখুন, সমালোচনা করুন।’
ভারতে বাংলাদেশি টিভি চ্যানেলের ইউটিউব চ্যানেল বন্ধ হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি ন্যক্কারজনক হলেও আমরা পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যাচ্ছি না, এতে তাদের কর্মকাণ্ড বৈধতা পেয়ে যাবে।’
শেয়ারবাজার সংস্কার নিয়ে প্রেস সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টা শেয়ারবাজার সংস্কারে আগ্রহী। তবে এটি যেন কোনো ‘ভেস্টেড গ্রুপ’-এর হাতে না পড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রাখার কথাও বলেন।
ড. ইউনূস গ্রামীণ গ্রুপ থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা পান কি না—এমন প্রশ্নে প্রেস সচিব বলেন, ‘আমার জানা মতে, তাঁর কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নেই। সরকার এসব বিষয়ে প্রভাব খাটায়নি।’
জুলাই ঘোষণাপত্র ও তদন্ত তিনি জানান, “৩০ কর্মদিবসের মধ্যে” জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ হবে। সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের দেশত্যাগের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে পিবিআইয়ের (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) সঙ্গে কথা বলেছি। তারা দেখছে, সে সময় কাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, কারা জেলে ছিল। তাদের প্রত্যেককে পুরোনো ট্রেইল ধরে এগোনো হচ্ছে। এটা খুব কষ্টসাধ্য। সর্বশক্তি দিয়ে এই জায়গায় কাজ করছে তারা। ক্লু বের করার চেষ্টা করছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ফ্যাক্ট চেকিং বাড়ানোর ওপর জোর দেন প্রেস সচিব। তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছর অনেক সাংবাদিক চরম চামচামি করেছেন। জাতিসংঘকে বলা হচ্ছে, তারা যেন স্বাধীন বিশেষজ্ঞ এনে বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ব্যর্থতা বিশ্লেষণ করে।’
খবরওয়ালা/আরডি