খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ মে ২০২৫
গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস জিয়াউল হক স্বপন জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় আক্রন্তদের খুঁজে বের করতেন। পরে তাদের পরিবারের সদস্যদের দিয়ে থানায় কিংবা আদালতে মামলা করার জন্য আবেদন তৈরি করেন। ওই আবেদনের খসড়া তালিকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি টার্গেট করা হয় স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও বাড়ির মালিকদের। পরে ওই মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কথা বলে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। যারা টাকা দিয়েছেন, তাদের নাম বাদ দিয়ে অন্যদের নামে মামলা করিয়েছেন। আর এসব মামলার বাদীরা আসামিদের চিনেন না। এভাবে তিনি সাধারণ মানুষ তো আছেই, বিএনপি নেতাদেরও মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন।
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে স্বপনের বিরুদ্ধে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর ভোল পালটে তিনি নতুনভাবে জেগে উঠেন। বর্তমানে দলীয় পদ না থাকলেও বিএনপির সাবেক নেতার পরিচয় দিয়েই করে যাচ্ছেন চাঁদাবাজি। স্থানীয় সূত্র বলেছে, জিয়াউল হক ওরফে জিএস স্বপন টঙ্গীর লেদু মোল্লা রোডের কফিল উদ্দিন দেওয়ানের ছেলে। তিনি আইনজীবী হওয়ার সুবাদে বিভিন্নভাবে জিম্মি করে মামলা বাণিজ্য করেন। স্বপনের চাঁদা দাবি, মামলা বাণিজ্য ও হুমকি-ধমকির ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় তার বিরুদ্ধেও দুটি মামলা এবং একাধিক লিখিত অভিযোগ রয়েছে।
রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় শিলা আক্তার নামের এক নারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২৭১ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলার ১৬৫ নম্বর আসামি গাজীপুর মহানগরীর ৫০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সহসভাপতি এবং বর্তমান সদস্য মুরাদ হোসেন বকুল। তিনি অভিযোগ করেন, স্বপন চাঁদা না পেয়ে তাকে মামলায় ফাঁসিয়েছেন। মামলার আসামিদের চেনেন কি না-এমন প্রশ্নে শিলা বলেন, ‘এ বিষয়ে স্বপন ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন।’
টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকার রড ব্যবসায়ী মো. কামাল ও তার ছেলে মাসুদ রানা এবং জাপান স্টিল নামের অপর একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. নূরানীও অভিযোগ করেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হওয়া মামলায় আসামি করে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছেন স্বপন। জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে নিয়ে ‘মামলার বাদী আসামিদের চেনেন না’ উল্লেখ করে হলফনামা করে আদালতে পেশ করেন তিনি। এছাড়া হবি মল্লিক ও হাজি বিল্লালও অভিযোগ করেছেন, স্বপন তাদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছেন।
মামলার বাদী চেনেন না আসামিদের : গত ৪ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় বিএনএস সেন্টারের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চোখে গুলিবিদ্ধ হন টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন। এ ঘটনায় ১৩ নভেম্বর ২০৩ জনের নামে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন তার বাবা আসান উল্লাহ। আসামিদের নামগুলো কে দিয়েছেন, জানতে চাইলে বাদী মো. আসান উল্লাহ বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না।’ তবে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আসান উল্লাহ বলেছিলেন, পুরো মামলাটি স্বপন ভাই (জিয়াউল হাসান) করিয়েছেন। আর মামলায় এত নাম দেওয়া হবে, তা তিনি জানতেন না। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জিয়াউল হাসান স্বপন মোবাইল ফোনে বলেন, আমি কারও বিরুদ্ধে মামলা করিনি। যারা বিগত দিনে আওয়ামী লীগ করেছে বা ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর ছিল, কেবল তাদের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে। আর এসব মামলার বাদী বা আইনজীবী আমি না। প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিচ্ছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, স্বপনের নামে থানায় চাঁদা দাবি ও হুমকি-ধমকির ঘটনায় মামলা রয়েছে। গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘স্বপনের এসব অনিয়মের বিষয়ে অনেকে অভিযোগ করেছেন। সে এখন দলীয় কোনো পদে নেই।’
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক সংসদ-সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, বিএনপিতে কোনো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও লুটেরাদের স্থান নেই।
খবরওয়ালা/এমএজেড