খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 3শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ১৭ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের অধ্যাদেশ বাতিল করে রাজস্ব ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার নিশ্চিত করার দাবিতে কলম বিরতির ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ঘোষণা অনুযায়ী রবিবার (১৮ মে) সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত কলম বিরতি কর্মসূচি পালন করবেন তারা।
শনিবার (১৭ মে) সকাল ১০টা থেকে ৩টা পর্যন্ত তৃতীয় দিনের মতো কলম বিরতি কর্মসূচি শেষে এমন ঘোষণা দিয়েছে সংস্কার ঐক্য পরিষদ।
এর আগে একই দাবিতে গত ১৪, ১৫ ও আজ (শনিবার) কলম বিরতি কর্মসূচি পালন করেন এনবিআর কর্মকর্তারা।
আগামীকাল রবিবার (১৮ মে) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টা কলম বিরতি চলবে। পূর্বের মতোই আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা, রপ্তানি কার্যক্রম এবং জাতীয় বাজেট প্রণয়ন কার্যক্রম এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে। আগামীকালের প্রেস ব্রিফিং দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত হবে। ওই ব্রিফিংয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ঐক্য পরিষদের দাবি, এনবিআর বিলুপ্ত করে যে রাজস্ব অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে, তা বাস্তবভিত্তিক নয় এবং এতে হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারীর মতামতের প্রতিফলন ঘটেনি। এমনকি সংস্কার কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশগুলো এখনও গোপন রাখা হয়েছে, যা অগ্রহণযোগ্য এবং এতে রাজস্ব ব্যবস্থায় সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আজকের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি যৌক্তিক দাবির বিষয়ে গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সমর্থনের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়। তবে এ কর্মসূচির কারণে করদাতা ও সেবাপ্রার্থীদের যে সাময়িক ভোগান্তি হয়েছে, সে জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে পরিষদ। তারা জানিয়েছে, আন্দোলন সফল হলে কর্মীরা অতিরিক্ত সময় দিয়ে অনিষ্পন্ন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করবেন।
এনবিআরসহ দেশের বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যানুসারে জানা যায়, সকাল ১০টা থেকেই অফিস যথারীতি শুরু হলেও সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিস উপস্থিত ছিলেন। সব ধরনের কাজ বন্ধ ছিল। তবে আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা, রপ্তানি কার্যক্রম এবং এনবিআরের জাতীয় বাজেট প্রণয়ন কার্যক্রম এই কর্মসূচির আওতা বহির্ভূত ছিল।
এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, গতকাল কতিপয় বহিরাগত অনুপ্রবেশ করানোর মাধ্যমে আমাদের আন্দোলনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টাকে আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। সাধারণ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে বিসিএস (ট্যাক্সেশন) অ্যাসোসিয়েশনের অনির্বাচিত নির্বাহী কমিটিকে অবৈধ ও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। অপরদিকে, বিসিএস কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির প্রায় সব সদস্য পদত্যাগ করায় এটিও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সুতরাং এই দুই অ্যাসোসিয়েশন এখন আর এই দুই ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিত্ব করে না। এমতাবস্থায়, বিলুপ্ত ও অকার্যকর এই দুই কমিটির নামে যে কোনো বক্তৃতা, বিবৃতি ব্যক্তিগত বলে গণ্য হবে।
তারা আরও বলেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা এই অচলাবস্থার নিরসন চাই। আশা করছি প্রধান উপদেষ্টার সানুগ্রহ নির্দেশনায় সরকার আমাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য বসবেন। আলোচনার দরজা আমাদের পক্ষ থেকে সবসময়ই খোলা ছিল, আছে এবং থাকবে।
এর আগে বুধবার ও বৃহস্পতিবার কলম বিরতি পালন করে এনবিআরের আওতাধীন সব অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
গত ১২ মে রাতে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছে। খসড়া অধ্যাদেশ জারির পর থেকেই আন্দোলন শুরু করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কিন্তু সরকার তাদের মতামত উপেক্ষা করেই প্রায় অপরিবর্তিত খসড়ার ভিত্তিতে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করেছে। নতুন অধ্যাদেশ জারির ফলে দীর্ঘদিনের রাজস্ব সংস্থা এনবিআর কার্যত বিলুপ্ত হলো। এখন থেকে ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’— এই দুই ভাগে পরিচালিত হবে।
খবরওয়ালা/এসআর