খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ মে ২০২৫
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চরপাড়া বাজারে মাছ কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২ শতাধিক মানুষ। এ সময় বাজারের ২০টি দোকান ভাঙচুর ও লুট করা হয়েছে।
রবিবার (১৮ মে) দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ হয় বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রঘুনাথ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন।
চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন জানান, মাইলমারি মির্জাপুর ইউনিয়নের লোকজন মাছ কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে বাজারের ব্যবাসায়ীদের সঙ্গে গোলোযোগ সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে সংঙ্গবদ্ধ হয়ে চরপাড়া বাজার দখল ও লুটপাট শুরু করে। এ সময় চরপাড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা বাধা দিতে গেলে সংঘর্ষে অন্তত ২ শতাধিক লোক আহত হয়েছে।
হরিণাকুন্ডু চরপাড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শৈলকুপা মাইলমারি মির্জাপুর গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিভিন্ন দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করতে থাকে। এ সময় চরপাড়ার ব্যবসায়ীরা বাধা দিতে গেলে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে।
বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করা হয়েছে। মাইলমারি মির্জাপুর এলাকার লোকজনহরিণাকুন্ডুর রঘুনাথপুর ইউনিয়নের চরপাড়া বাজারে এ লুটপাট করে।
পোড়াহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ জানান, বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির রিফাত নামের এক ছাত্রের সঙ্গে স্কুলের অন্যান্য ছেলেদের মারামারি হয়। পরে ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলে এখান থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর হোসেন জানান, রবিবার রাত পর্যন্ত হরিণাকুণ্ডু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জন ভর্তি হয়েছে। যার মধ্যে দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গুরুতর আহতরা ঝিনাইদহ সদর ও কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি হতে পারে, যেটির হিসাব তার জানা নেই।
হরিণাকুন্ডু থানা অফিসার ইনচার্জ এম এ রউফ জানান, ঘটনা জানার পর চরপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে হরিণাকুন্ডু থানা থেকে অতিরিক্ত ফোর্সসহ নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
আহতের সংখ্যা বিষয়ে তিনি জানান, হরিণাকুণ্ডু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ২৫/৩০ জন ভর্তির বিষয়টি জানি। তবে ছোট খাট আহতের ঘটনা জানা যায় না। সেই হিসাবে যারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন তাদের হিসাব পুলিশ প্রশাসনের কাছে নেই।
হরিণাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম তারিকুজ্জামান জানায়, ঘটনার বিষয় শোনার পরপর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়।
খবরওয়ালা/এমইউ