খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ মে ২০২৫
রাজধানীর হাজারীবাগের ঝিগাতলা এলাকায় মাদকসেবন নিয়ে বাকবিতণ্ডার জের ধরেই ড. মালেকা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী সামিউর রহমান খান আলভীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত চার যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (২১ মে) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম।
গ্রেপ্তাররা হলেন—মো. রায়হান (২০), হাবিবুর রহমান মুন্না (২৬), সমতি পাল (২৩) ও কাউসার (২১)। মঙ্গলবার ধানমণ্ডি ও হাজারীবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিসি মাসুদ জানান, নিহত আলভী হাজারীবাগ থানার মনেশ্বর রোড এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন এবং ড. মালেকা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত ১৫ মে সন্ধ্যায় ধানমণ্ডি লেকপাড়ের বাগানবাড়ি এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় বসাকে কেন্দ্র করে আলভী ও তার বন্ধুদের সঙ্গে আসামি হাসানসহ কয়েকজনের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় মাদকসেবন নিয়েও বিতর্কে জড়ান তারা। এর পরদিনই অর্থাৎ ১৬ মে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আলভী ও তার বন্ধুদের উপর হামলার পরিকল্পনা করে।

ঘটনার দিন আলভী ও তার তিন বন্ধু—আশরাফুল ইসলাম, জাকারিয়া ও ইসমাঈল হোসেন—সহ ধানমণ্ডি লেকে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে গ্রেপ্তারকৃত ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন মিলে কৌশলে তাদের হাজারীবাগ থানার ঝিগাতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিয়ে যায়। এরপর হঠাৎ করে আলভী ও তার বন্ধুদের ওপর ছুরি ও চাপাতি নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলভীকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তিন বন্ধু এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর আলভীর বাবা মশিউর রহমান খান হাজারীবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ডিসি মাসুদ আলম বলেন, ‘মাদকসেবনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধানমণ্ডি লেকে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, সেটারই পরিণতি হলো এই হত্যাকাণ্ড। গ্রেপ্তাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পূর্বশত্রুতার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’