খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫
নতুন মার্কিন শুল্কনীতির প্রভাবে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত আমদানি শুল্ক উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বাণিজ্য ব্যয় বাড়িয়ে তুলবে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন বৈষম্য তৈরি করতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা ইউএনসিটিএডি প্রকাশিত ‘স্প্যারিং দ্য ভালনারেবল: দ্য কস্ট অব নিউ ট্যারিফ বার্ডেনস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ চিত্র তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শতবর্ষ ধরে অপরিবর্তিত বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক আরোপ এক বড় ধাক্কা। যদিও ৯০ দিনের জন্য শুল্ক কার্যকরে স্থগিতাদেশ কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।
জাতিসংঘ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি সামান্য হলেও (মাত্র ০.৩ শতাংশ), শুল্ক বৃদ্ধির ফলে রপ্তানি খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। এতে করে বিশেষ করে পোশাক ও কৃষিপণ্য খাতে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের আমদানির ওপর ১০ শতাংশ সর্বজনীন শুল্ক আরোপের পর আগামী জুলাই থেকে দেশভিত্তিক বাড়তি শুল্ক কার্যকর হলে বাংলাদেশের পণ্যে গড় আমদানি শুল্ক ৪৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এতে করে দেশটির বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
জাতিসংঘ বলছে, এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো, ট্যারিফ রিলিফ নীতিমালা চালু এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি। তা না হলে বিশ্ববাণিজ্যে নতুন বৈষম্য সৃষ্টি হয়ে তা বৈশ্বিক উন্নয়নকে দীর্ঘ মেয়াদে ব্যাহত করতে পারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে শক্তিশালী করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আসন্ন বাজেটে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হওয়া ১০০টি পণ্যে শুল্কছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে।