খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ মে ২০২৫
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশেষ ভিজিএফ কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলা শিবির সভাপতি মোহাম্মদ আলীসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
রোববার (২৫ মে) সকালে উপজেলার আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এই সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলমপুর ইউনিয়নের জন্য ঈদ উপলক্ষে ১ হাজার ৫১২টি বিশেষ ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে কিছু কার্ড বিএনপি, জামায়াত এবং ছাত্র সংগঠনের নেতাদের দেওয়া হয়, বাকি কার্ড ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল মতিন মারা যাওয়ায় ওই ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আম্মাদ হোসেনকে। তিনি সুবিধাভোগীদের একটি তালিকা তৈরি করে ইউপি অফিসে জমা দেন। তবে ওই তালিকা নিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং রোববার সকালে ইউপি কার্যালয়ে এসে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোছা. হোসনে আরার সঙ্গে আলোচনা করেন।
আলোচনার একপর্যায়ে ইউপি কার্যালয়ের বাইরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উপজেলা শিবির সভাপতি মোহাম্মদ আলী (২৫), ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জুয়েল ফকির (৪৫), রাজু (২৫), মাসুদ (৩৭), ছাব্বির হোসেন (১৮), শিহাব (১৮) ও আবু কাশেম (৪৭) আহত হন।
আহত মোহাম্মদ আলীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান মোছা. হোসনে আরা জানান, স্থানীয় প্রশাসনের পরামর্শে কার্ড বিতরণে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছিল। তবে বিতরণ নিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ক্ষেতলাল উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শামীম হোসাইন অভিযোগ করেন, আলোচনা শেষে ইউপি কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে জামায়াত কর্মীদের আহত করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদুল মাসুদ আঞ্জুমান বলেন, “একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।”
ক্ষেতলাল থানার ওসি মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।