পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ মে ২০২৫
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মানদীর চরে চাষ করতে গিয়ে আটজন কৃষক হামলার শিকার হয়েছেন। বালু মহাল দখলকে কেন্দ্র করে বালুদস্যুদের হামলায় আহত হয়েছেন তারা। হামলাকারীরা কৃষকদের দুটি গরু ছিনিয়ে নিয়ে জবাই করে পিকনিক করে খেয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (২৫ মে) দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের আড়মবাড়ি এলাকার পদ্মার চরে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহতরা হলেন—সাঁড়া ঝাউদিয়া এলাকার আনছার আলী মাঝি (৬৭) ও তার ছেলে মজনু হোসেন (৩৫), মাঝদিয়া এলাকার মাছিদুল ইসলাম (৩৬) ও মজিদুল ইসলাম (৪০), লিটন খাঁ (৪০), সোহান, আরাফাত ও এজাজুল। এদের সবাই প্রান্তিক কৃষক, যারা পদ্মার চরে পৈতৃক বা লিজ নেওয়া জমিতে দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছিলেন।
আহতদের অভিযোগ, বালু উত্তোলন নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী কাকন ও যুবদল নেতা সুলতান আলী বিশ্বাস টনির মধ্যে বিরোধের জেরে কয়েক দিন আগে গুলির ঘটনাও ঘটে। তারা বলেন, ‘আমরা কারো পক্ষের লোক নই। আমরা চাষ করতেই চরে গিয়েছিলাম। হঠাৎ কাকনের লোকজন এসে আমাদের বেধড়ক মারধর করে এবং দুটি গরু নিয়ে যায়। পরে সেই গরু জবাই করে খেয়ে ফেলে।’
আহত লিটনকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবাসিক চিকিৎসক ডা. সাহিদুল ইসলাম শিশির। বাকিদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) এমরান মাহমুদ তুহিন বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমার জানা নেই, কেউ অভিযোগও দেয়নি। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।’
অভিযুক্ত কাকনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, কাকন দীর্ঘ ২০ বছর ধরে চরের বালু ও জমি দখলে রেখে বাণিজ্য করে আসছে। তার লোকজন নদীতেই থাকে, সেখানেই খায় ও ঘুমায়। তাদের কাছে অবৈধ অস্ত্র, স্পিডবোট ও ইঞ্জিনচালিত নৌকাও রয়েছে। কাকন কোনো দলীয় নেতা না হলেও সময় ও সুযোগ বুঝে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়া অবস্থান করে প্রভাব বিস্তার করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার হামলা, দখল ও চাষিদের হয়রানির ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
খবরওয়ালা/আরডি