খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ২৮ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
মার্কিন প্রশাসনের নতুন নির্দেশনায় বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলোতে শিক্ষার্থী ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রদান সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভিসাপ্রার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি আরও কঠোর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সময় নেওয়া এই পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এক কূটনৈতিক বার্তার অনুলিপিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, নতুন নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভিসার জন্য সাক্ষাৎকার নির্ধারণ স্থগিত থাকবে। তবে পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাৎকারগুলো যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।
বার্তায় আরও বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় এখন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পর্যবেক্ষণ আরও কঠোরভাবে চালানো হবে। যদিও ঠিক কীভাবে এই পর্যবেক্ষণ হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা এখনও জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ এমন সময়ে এসেছে যখন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দেশটির শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ‘অতিমাত্রায় বামপন্থী’ হয়ে উঠেছে এবং তারা ইহুদি-বিরোধিতা ও বৈষম্যমূলক ভর্তি নীতি প্রশ্রয় দিচ্ছে।
সিবিএস নিউজ জানায়, দূতাবাসগুলোকে পাঠানো বার্তায় নতুন করে নির্ধারিত না হওয়া সব সাক্ষাৎকার বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সব ভিসা আবেদনকারীর সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার যাচাইয়ের আওতা বাড়ানো হবে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিজ দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে সাক্ষাৎকার দিতে হয়। এই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত টিউশন ফি যুক্তরাষ্ট্রের বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি প্রধান আয় উৎস।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস এক বিবৃতিতে বলেন, “কে এই দেশে প্রবেশ করছে তা যাচাই করা আমাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।”
ট্রাম্প প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ আগে থেকেই উদ্বেগের জন্ম দিয়েছিল। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য নির্ধারিত শত শত মিলিয়ন ডলারের তহবিল স্থগিত করা হয় এবং কয়েক হাজার বিদেশি শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যদিও অনেক ক্ষেত্রেই আদালত সেই সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দেয়।
বিশেষ করে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এই বিতর্কের কেন্দ্রে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ডের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি ও বিদেশি গবেষক নিয়োগের ক্ষমতা বাতিল করে দেয়। তবে আদালতের হস্তক্ষেপে সেই সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীদের প্রায় এক চতুর্থাংশই বিদেশি। ফলে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনগুলো বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এসব পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা উচ্চশিক্ষার পরিবেশ ও গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
খবরওয়ালা/এমএজেড