নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫
আশা ছিল কোরবানির ঈদের আগেই অন্তত এক ম্যাচে আত্মত্যাগের বদলে আত্মপ্রতিষ্ঠা হবে। কিন্তু না! গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতেই সেই পুরনো গল্পের পুনরাবৃত্তি। একসময় ২ উইকেটে ১০০ রান তুলে আশা দেখালেও শেষ পর্যন্ত গুটিয়ে যায় ১৬৪ রানে। পাকিস্তান জিতে যায় ৩৭ রানে।
ম্যাচের নাট্যরচনায় প্রধান খলনায়ক বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরাই। বিশেষ করে লিটন দাসের আউট—যার মাধ্যমে যেন কবর রচনা হলো দলের সম্ভাবনার।
প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তান তোলে ২০১ রান, যা গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে তাদের সর্বোচ্চ। সালমান আলি আগার ঝলক, হাসান নাওয়াজের ঝড় এবং শেষ দিকে শাদাব খানের রুদ্র মূর্তিতেই মূল রূপ পায় ইনিংসটি। শেষ ৩ ওভারে আসে ৪২ রান!
বাংলাদেশের ‘সেরা’ বোলার ছিলেন শামীম হোসেন—কারণ তিনিই অন্তত একটা লাইন লেন্থ ঠিক রেখেছেন। আর সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছিলেন রিশাদ হোসেন—৪ ওভারে দিলেন ৫৫ রান।
জবাব দিতে নেমে শুরুটা মোটামুটি। কিন্তু পারভেজ হোসেন এক ছক্কা মারার পরেই চার রানে বিদায়। এরপর তানজিদ হাসান কিছুটা ঝড় তুললেও তিনিও গেলেন দ্রুতই। এরপর এল ‘মেধাবী জুটি’ লিটন-হৃদয়। একজন খেললেন দ্রুত, অন্যজন খেললেন যেন ধীরস্থির গদ্যপাঠ। হৃদয়ের ইনিংস ২২ বলে ১৭। ব্যাটিং না গুগল ট্রান্সলেশনে টাইম নেয়া?
লিটন অবশ্য চেষ্টা করছিলেন। দুটি ছক্কা মারলেন, ৪৮ রানে থামলেন। সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ হলো দলের রানে যাত্রাও। এরপর শুধুই ডাউনহিল।
দীর্ঘদিন পর টি-টোয়েন্টিতে খেলতে নেমে একেবারে ফাইভ-স্টার কামব্যাক হাসান আলির। ৫ উইকেট নিয়ে গুঁড়িয়ে দিলেন বাংলাদেশকে। পাকিস্তানের ইতিহাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ৫ উইকেট নেয়া বোলারও এখন তিনিই।
পাকিস্তানের নতুন কোচ মাইক হেসনের যাত্রা হলো শুভ সূচনামূলক। আর বাংলাদেশের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের এক্সপ্রেশন ছিল ফ্রোজেন ফ্রেমে—অভিনয়বিহীন ট্র্যাজেডি দৃশ্যপট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান: ২০১/৭ (২০ ওভারে)
সালমান ৫৬ (৩৪), শাদাব ৪৮ (২৫), নাওয়াজ ৪৪ (২২)
বোলিং: শরিফুল ২ উইকেট, রিশাদ ১ (৫৫ রান!), শামীম ১
বাংলাদেশ: ১৬৪ অলআউট (১৯.২ ওভারে)
লিটন ৪৮ (৩০), জাকের ৩৬ (২০), তানজিদ ৩১ (১৭)
বোলিং: হাসান আলি ৫/৩০, শাদাব ২/২৭
ফল: পাকিস্তান জয়ী ৩৭ রানে
সিরিজ: পাকিস্তান ১-০
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শাদাব খান