খবরওয়ালা স্পোর্টস ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন ৮ পরিচালক। বুধবার (২৮ মে) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর চিঠি দিয়েছেন বিসিবি পরিচালকরা। বিসিবির এক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গণমাধ্যমের হাতে আসা অনাস্থা জ্ঞাপন করা চিঠিতে স্বাক্ষর করা আট পরিচালক হলেন- নাজমুল আবেদীন ফাহিম, ফাহিম সিনহা, সাইফুল আলম স্বপন চৌধুরী, ইফতেখার রহমান মিঠু, মাহবুব উল আলম, কাজী ইনাম আহমেদ, মনজুর আলম ও সালাউদ্দিন চৌধুরী।
পরিচালকারা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন- ফারুক আহমেদকে ক্রীড়া পরিষদ থেকে মনোনয়ন দিয়ে বিসিবি পরিচালক করা হয় এবং পরবর্তীতে বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ট পরিচালকবৃন্দ (৯ জনের মধ্যে ৮ জন) অনাস্থা জানাচ্ছেন, ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক ফারুক আহমেদকে দেওয়া পরিচালকের মনোনয়ন যেন বাতিলের আইনানুগ ব্যবস্থা করা হয়।

ফারুকের বিরুদ্ধে আট পরিচালকের আনা অভিযোগ হলো- স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি, অনিয়মসহ নানা অভিযোগ তুলে ধরেছেন আট পরিচালক। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, বিসিবিতে বিভিন্ন কমিটির প্রধান হিসেবে তাঁরা নিজেদের মতামত দিতে পারছেন না। সে জন্য তাঁরা ‘যথেষ্ট দক্ষতা ও যোগ্যতা’ থাকা সত্ত্বেও যথাযথভাবে তাঁদের ভূমিকা রাখতে পারছেন না। এই পরিচালকদের দাবি, সাবেক কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে কারও সঙ্গে আলোচনা না করে ফারুক আহমেদ তাঁর একক সিদ্ধান্তে অপসারণ করেছেন।
চিঠিতে তারা উল্লেখ করেছেন- পতিত সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া অযোগ্য, দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অপসারণের কথা ছিল। কিন্তু সভাপতি তাদের আরও সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বহাল রেখেছেন। ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলে অনিয়মে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিসিবিতে নিয়োগ দিয়েছেন ও অযোগ্যদের পদোন্নতি দিয়ে যোগ্য, সৎ ও কর্মঠদের কোণঠাসা করেছেন। পরিচালকরা দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং গঠনতন্ত্র সংশোধন-পরিমার্জনের তাগিদ দিলেও কোন উদ্যোগ নেননি।
তারা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন- বিপিএলে আর্থিক অনিয়ম করা ফ্র্যাঞ্জাইজি দুর্বার রাজশাহী ও চিটাগং কিংসের বিষয়ে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে যাচাইবাছাই না করে, ব্যাংক গ্যারান্টি না নিয়ে নিজের একক সিদ্ধান্তে ও ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিপিএলে খেলার সুযোগ দিয়েছেন। যার কারণে বিপিএলে পারিশ্রমিক না পাওয়া, বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম হয়েছে। বিপিএলের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে তালিকাভূক্ত কোম্পানির থেকে দরপত্রের মাধ্যমে কার্যাদেশ প্রদানের নিয়ম মানেননি সভাপতি। তার বিরুদ্ধে বিসিবির অন্তর্ভূক্ত ক্লাবে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ, ক্লাব দখল ও দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরিচালকরা অভিযোগ করেছেন- বিসিবি সভাপতির স্বেচ্ছাচারিতা ও একক সিদ্ধান্তকে সমর্থন না দিলে ঔদ্ধত্যপূর্ণ, অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং বিভিন্ন ফোরামে হেয় করা হয়। এককভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভায় জোর করে পাশ করিয়ে নেন সভাপতি। যা গঠনতন্ত্রের লঙ্ঘন। ফারুক আহমেদের বিতর্কিত, স্বেচ্ছাচারি কর্মকাণ্ড, ক্রিকেট অপারেশন্সে হস্তক্ষেপের কারণে ক্রিকেট র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ৬-৭ অবস্থান থেকে ১০ এ নেমেছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট হেরেছে।
এছাড়া বিসিবি সভাপতির বিরুদ্ধে আঞ্চলিক ক্রিকেট উন্নয়নে কোন উদ্যোগ না নেওয়া, দুর্নীতি দূরিকরণে উদ্যোগ না নেওয়া, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রিকেটার উঠে আসতে ভূমিকা না রাখার অভিযোগ আনেন।
বিসিবির এফডিআর দুর্বল ব্যাংকে স্থানান্তরের যে অভিযোগ ফারুকের বিরুদ্ধে কেউ কেউ করেছিলেন, সেটির উল্লেখ চিঠিতে নেই। তবে সেই এফডিআর যে দুই পরিচালকের স্বাক্ষরে দুর্বল ব্যাংকে স্থানান্তর হয়েছিল, তাঁরা আবার অনাস্থার চিঠিতে সই করেছেন। তিন পৃষ্ঠার চিঠির শেষ দিকে অনাস্থা প্রস্তাব আমলে নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক ফারুক আহমেদের মনোনয়ন বাতিল করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

এর আগে গতকাল রাতে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ। সেখানে ফারুককে জানানো হয়, সরকার আর বিসিবি সভাপতি পদে তাঁকে চাইছে না। এ ব্যাপারে আজ ফারুক বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি পদত্যাগ করব না। আমাকে বলা হয়েছে, সরকার নাকি আমাকে আর বিসিবি সভাপতি হিসেবে রাখতে চাইছে না। কিন্তু কেন রাখতে চাইছে না, সেটার কোনো কারণ তারা আমাকে বলেনি। বিনা কারণে তো আমি পদত্যাগ করতে পারি না।’
তারপরই সামনে এলো এই চিঠি। চিঠিতে তারিখ যদিও গতকালের, এতে স্বাক্ষর করা কয়েকজন পরিচালক গণমাধ্যমকে বলেছেন, চিঠিটির ব্যাপারে আজই তাঁরা জানতে পেরেছেন এবং সইও করেছেন আজ। অনেকের সই নেওয়া হয়েছে স্ক্যানের মাধ্যমে। তবে চিঠিতে স্বাক্ষর করা পরিচালকদের মধ্যে তিন–চারজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিচালক চিঠিতে স্বাক্ষর থাকা আরেক সিনিয়র পরিচালকের নাম উল্লেখ করে বলেছেন, ‘উনি স্বাক্ষর করতে বলেছেন, তাই করেছি। আমি বলেছি, আপনারা যেদিকে আছেন, আমিও সেদিকে আছি।’
খবরওয়ালা/এসআর