খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫
রাতের শহর তখন নিশ্চিন্ত ঘুমে। কিন্তু র্যাবের টিম ব্যস্ত ছদ্মবেশে। ইলেকট্রিক মিস্ত্রি সেজে হঠাৎই হানা দিল রংপুরের তিনটি আবাসিক হোটেলে। তল্লাশি চালিয়ে হাতেনাতে ধরে ফেলল অজ্ঞানপার্টির ১১ সদস্যকে। আসন্ন ঈদ-উল-আযহা সামনে রেখে চক্রটি গরুর হাটে বড় পরিকল্পনায় ছিল। তবে তার আগেই র্যাবের ফাঁদে ধরা পড়ে গেল তারা।
আন্তঃজেলা অজ্ঞানপার্টির মূলহোতাসহ ১১ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
শুক্রবার (৩০ মে) মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন: মো. ইমরান খান (৩৫), আব্দুল সাদেক সেখ (২৫), আ. লতিফ (৫৬), মো. খসরু আহমেদ (৪৬), মো. জয়নাল আবেদীন (৪৫), মো. মহিবুল (৪৫), মো. আ. সালাম (৪০), মো. চাঁন শরীফ ব্যাপারী (৬২), মো. রিপন (৫৫), মো. আজাহার উদ্দিন (৬২), রেজাউল ইসলাম (৫৫)।
র্যাব জানায়, আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বিভিন্ন অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা সারা দেশে পশুরহাটে চেতনানাশক ঘুমের ঔষধ দিয়ে হালুয়া তৈরি করে গরু ব্যবসায়ীদের খাইয়ে অজ্ঞান করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা লুঠপাটসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করে সর্বস্বান্ত করে। এই অজ্ঞান পার্টি আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
র্যাব-১৩ রংপুরের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহা. জয়নুল আবেদীন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত একাধিক অভিযানে রংপুর মহানগরীর হোটেল এম রহমান, হোটেল জামাল এবং হোটেল সানমুন থেকে আন্তঃজেলা অজ্ঞানপার্টির মূলহোতাসহ ১১ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের প্রত্যেকের নামে আন্তঃজেলা অজ্ঞানপার্টি হিসেবে বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা রয়েছে। অভিযানে উদ্ধার করা হয় বিভিন্ন কোম্পানির ৪৫ পাতা (৪৫০ পিস) চেতনানাশক ঔষধ, ছোট বড় বিভিন্ন সাইজের প্রায় ১০ কৌটা চেতনানাশক হালুয়া এবং ১ টি পলিথিন ব্যাগে ১৭ পিস হালুয়া। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে মো. ইমরান খান (৩৫) অজ্ঞানপার্টির মূলহোতা। তার দিক নির্দেশনায় বাকি আসামিরা বিভিন্ন গরুর হাটে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
লে. কর্নেল মোহা. জয়নুল আবেদীন জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিতে শুধু ঈদ ঘিরেই নয় সব সময় র্যাবের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
খবরওয়ালা/এন