খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ জুন ২০২৫
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয়সহ ১০টি আঞ্চলিক অফিস গত ১৫ মে থেকে তালাবদ্ধ। বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানোর দাবিতে এ তালাবদ্ধতা শুরু করেন তার সমর্থকরা। কবে খুলবে নগরভবন, তা নিয়ে কেউ নিশ্চিত কিছু বলতে পারছেন না।
এই অবস্থায় সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে ঈদুল আজহার প্রস্তুতি। হাট ব্যবস্থাপনা ও কোরবানির বর্জ্য অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোতে তৈরি হয়েছে ঘাটতি। ডিএসসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ আন্দোলনে যুক্ত হওয়ায় কাজের গতি একেবারেই স্থবির।
বাধাগ্রস্ত নাগরিক সেবা ও রাজস্ব আদায়
জন্ম-মৃত্যু-তালাক নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন, হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধসহ প্রায় ৩০টি সেবা বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ নগরভবন ও আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে এসে সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে আছে সরকারি প্রকল্পের বিল প্রদান কার্যক্রম, ফলে অর্থবছরের শেষ মুহূর্তে প্রকল্প অর্থ ফেরতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সামাজিক ও অবকাঠামোগত কার্যক্রমও থেমে আছে
রাস্তা, ফুটপাত, নর্দমা সংস্কার, মশা নিধন, আলো জ্বালানো থেকে শুরু করে সৎকার ব্যবস্থা, পার্ক ও খেলার মাঠের ব্যবস্থাপনাও ব্যাহত। জরুরি কিছু সেবা ওয়ার্ড পর্যায়ে সীমিত আকারে চালু থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য ও বিতর্ক
নগর ভবনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। ‘ইশরাক তোমার ভয় নাই’, ‘ইশরাকের শপথ নিয়ে টালবাহানা মানব না’— এমন স্লোগানে মুখরিত হচ্ছে নগর ভবন। আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক সচিব মশিউর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, এটা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।
অন্যদিকে, আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর একাংশও বলছে, তারাও দীর্ঘ মেয়াদি তালা বন্ধ সমর্থন করে না। ঢাকা দক্ষিণের জাতীয়তাবাদী শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরাও চাই তালা খুলুক।’
বিশেষজ্ঞদের মতামত
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আন্দোলনের অধিকার থাকলেও দিনের পর দিন নগরভবন বন্ধ রাখা দায়িত্বশীল আচরণ নয়।”
বুয়েটের অধ্যাপক ড. মুসলেহ উদ্দীন হাসান বলেন, “দাবি-দাওয়া যৌক্তিক হলেও এর ফলে লাখো নাগরিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, আন্দোলনের কৌশল নিয়ে পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।”
কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. জিল্লুর রহমান জানান, এ অবস্থা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের অংশগ্রহণ নিয়েও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
খবরওয়ালা/এমএজেড