খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের আস্থা ভোট প্রদানের সুযোগ রাখার পক্ষে মত দিয়েছে একাধিক রাজনৈতিক দল। তাদের মতে, সরকারের স্থায়িত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ বিধান জরুরি। বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) স্পষ্টভাবে আস্থা ভোটের পক্ষে মত দিয়েছে, যদিও কয়েকটি দল এ নিয়ে আরও আলোচনা চায়।
মঙ্গলবার (৩ জুন) ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় পর্বের বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সভায় এ মত উঠে আসে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্যেই এ আলোচনা হচ্ছে। জুলাই মাসে একটি ‘জুলাই সনদ’ প্রকাশের জন্য এসব আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত প্রস্তাবনা তৈরি করবে কমিশন।
আজকের আলোচনায় আলোচ্য বিষয় ছিল সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, সংসদের নারী আসন, স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ-কার্যপরিধি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং উপমহাদেশের চর্চা বিবেচনায় আমাদের স্পষ্ট মত হচ্ছে—৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আস্থা ভোট না থাকলে সরকারের স্থায়িত্ব থাকবে না। সরকার বারবার পরিবর্তন হবে, যা শোভনীয় নয়।’
তিনি আরও বলেন,‘আস্থা ভোট, অর্থবিল ও সংবিধান সংশোধন ছাড়া অন্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মতামতের পক্ষে বিএনপি। তবে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ের জন্য ৭০ অনুচ্ছেদে আস্থা ভোট যুক্ত করার প্রস্তাব দিচ্ছি।’
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন,‘সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি সরকারের স্থিতিশীলতার জন্যও আস্থা ভোট থাকা উচিত। অর্থবিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও এটি প্রযোজ্য হওয়া দরকার।’
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আস্থা ভোটের ব্যবস্থা না রাখলে প্রধানমন্ত্রী থাকবেন আনচ্যালেঞ্জড। এটি গ্রহণযোগ্য নয়। এ নিয়ে আরেকবার বসে সমাধানের পথ বের করতে হবে। আজই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়া ঠিক হবে না।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘আলোচিত বিষয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও একবার আলোচনা হবে।’
আজকের আলোচনায় অংশ নিচ্ছে ৩০টি রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে রয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), খেলাফত মজলিস, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, গণসংহতি আন্দোলন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), গণ অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, ১২–দলীয় জোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণফোরাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, জাকের পার্টি, জাতীয় গণফ্রন্ট, আমজনতার দল, ভাসানী অনুসারী পরিষদ/ভাসানী জনশক্তি পার্টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও ইসলামী ঐক্যজোট।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। কমিশনের অন্য সদস্যরা ছিলেন মো. আয়ুব মিয়া, সফর রাজ হোসেন, বদিউল আলম মজুমদার, এমদাদুল হক ও ইফতেখারুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দারও।
খবরওয়ালা/আরডি