খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫
যশোরের ঈদের দিন নিখোঁজ শিশু সোহানার (১১) লাশ পরদিন সকালে উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৩ জুন) বিকালে পুলিশ মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করে, শিশুটিকে তারই আপন ফুফাতো ভাই মাদ্রাসাছাত্র নাজমুস সাকিব নয়ন (১৯) ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেয়।
পুলিশ জানায়, ঈদের দিন নিখোঁজ সোহানার লাশ পরদিন (৮ জুন) সকালে পুকুরের পানিতে ভাসতে দেখে তার মামা ইলিয়াস হোসেন চিৎকার দিলে লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে নিহতের বাবা আব্দুল জলিল মেয়ের ঠোঁটে জখমের চিহ্ন ও রক্ত বের হতে দেখেন। বিষয়টি জানার পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনার পর ঝিকরগাছা থানার ওসির নেতৃত্বে একটি টিম বুধবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে নিহতের ফুফাতো ভাই নাজমুস সাকিব নয়নকে তার বাড়ি থেকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে পুলিশের কাছে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
নিহতের ফুফাতো ভাই নয়ন পুলিশকে জানিয়েছে, ঈদের দিন (৭ জুন) তার মামাতো ভাই রিয়াজকে মামা বাড়ি দিয়ে বাড়িতে এসে দেখে তার ছোট বোন তন্বী রুমে ঘুমিয়ে আছে আর বাইরে মামাতো বোন সোহানা দোলনায় দোল খাচ্ছে। তাকে একা দেখে নয়নের যৌন বাসনা জাগে এবং সে তাকে জাপটে ধরে তার রুমে নিয়ে গলা ও মুখ চেপে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে সোহানা শ্বাসরোধে মারা গেলে নয়ন তাকে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ফেলে দিয়ে আসে। এরপর তার বোনকে ঘুম থেকে জাগিয়ে বিষয়টি গোপন করতে সোহানাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে কাহিনী সাজাতে থাকে। এরপর নয়ন তার বোনকে নিয়ে মামা বাড়ি যায় এবং তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানায়।
গ্রেফতার নয়ন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার হাড়িয়া গ্রামের ইলিয়াস হোসেনের ছেলে। সে মণিরামপুর উপজেলার মাছনা কওমি মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে।
জানতে চাইলে ঝিকরগাছা থানার ইন্সপেক্টর (ওসি তদন্ত) আবু সাঈদ বলেন, ১২ জুন নিহতের ফুফাতো ভাই নাজমুস সাকিব নয়নকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। নয়ন বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে।
খবরওয়ালা/এফএস