সোমবার, ১ই জুন ২০২৬, ১৮শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ১ই জুন ২০২৬, ১৮শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ :
ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু

কলাম

‘পূর্বক্ষণ’ উপন্যাসের হৃদয়স্পর্শী প্রেক্ষাপট

মনিরুজ্জামান

প্রকাশ: রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫

‘পূর্বক্ষণ’ উপন্যাসের হৃদয়স্পর্শী প্রেক্ষাপট
মনিরুজ্জামান

“মৃত্যু জেলের মতো, যে জেলে জালে মাছ ধরে জলের মধ্যে তাকে খানিক রাখে। মাছটা এখনো সাঁতার কাটছে, কিন্তু সে জালে বন্দী। যেদিন খুশি জেলে তাকে টেনে তুলবে।”

মানুষের জীবন মৃত্যুর জালে বন্দী। ক্ষণজীবনে আপন কর্মের দ্বারাই মৃত্যুর পথে হেটে কেউ কেউ এই পৃথিবীতে অমর হয়ে আছেন। ইভান তুর্গেনেভ তেমনি একজন অমর মনীষী। রুশ বাস্তববাদী এই লেখকের বিখ্যাত গ্রন্থ হচ্ছে, ‘পিতা পুত্র’ ‘প্রথম প্রেম’ ‘মুমু’ ‘জনক ও জাতক’ ‘আসিয়া’ এবং ‘পূর্বক্ষণ’। এই নিবন্ধের বিষয় ‘পূর্বক্ষণ’।

১৮৫৩’র গ্রীষ্ণের উষ্ণ দিনে মস্কো নদীর তীরে লাইম গাছের ছায়ায় শুয়ে গল্প করছিলেন দুই যুবক বন্ধু। একজনের নাম আন্দ্রেই পেত্রভিচ বেরসেনেভ যার বয়স প্রায় তেইশ। অপর বন্ধু পাভেল য়াকভলেভিচ শুবিন বয়স প্রায় ছাব্বিশ। সুগঠিত সুঠাম দেহের বাহ্যিক বর্ণনা দিয়ে কলমের কালি খরচ না করে অভ্যন্তরীন চিন্তার কথাই বলি।

আন্দ্রেই পেত্রভিচ বেরসেনেভ ভাবুক স্বভাবের দর্শন রসিক। অপর বন্ধু পাভেল য়াকভলেভিচ শুবিন শিল্প-সাহিত্য রসিক। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নান্দনিক রসবোধের নন্দনতত্ত্বের শৈল্পিক আলোচনায় দু’জন মদমত্ত। সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে প্রাকৃতিক সবকিছুর মধ্যেই সৌন্দর্য বিদ্যমান। 
শুবিন সুধাচ্ছেন, ‘যা কিছু সুন্দর তার পেছনেই তো ছোটা যায় না। প্রাচীন শিল্পীদের সৌন্দর্যের পেছনে ছুটতে হতো না। তাদের সৃষ্টির মধ্যে সৌন্দর্য সহজেই আসতো।’
বেরসেনেভ বলেন, ‘যদি সৌন্দর্যকে সহানুভূতি না দেখাও, সৌন্দর্যকে দেখলেই যদি তুমি না ভালোবাসো তাহলে তোমার শিল্পের মধ্যেও সৌন্দর্য ধরা পড়বে না। যতক্ষণ না সুন্দর দৃশ্য কিংবা সুন্দর সঙ্গীত তোমার হৃদয়ে কোনো সুর না জাগায়, অর্থ্যাৎ যতক্ষণ না তুমি তাকে সহানুভূতি জানাও…।’

এলেনা নিকলায়েভনা-এর চিত্র আকঁতে শুবিনের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এলেনা নিকলায়েভনা নিকলাই আরতেমিয়েভিচ স্তাখভ আন্না ভাসিলিয়েভনার মেয়ে। দুই বন্ধুর বাক্যালাপে প্রকৃতির প্রেমের বিষয়টি প্রস্ফূটিত হয়ে ওঠেছে। বইয়ের পাতা থেকেই পড়ছি- ‘আলাদা আলাদা বা খন্ড প্রেম বলে কিছু নেই। এই প্রেম প্রকৃতির প্রেম। আমাদের নিয়তি প্রকৃতির কবলে বাঁধা। প্রতিনিয়ত প্রকৃতি আমাদের গ্রাস করে চলেছে। জীবন ও মৃত্যু-এ দুই তারই হাতে।’

‘কিসে মানুষে মানুষের মধ্যে মিলন ঘটায়? জগতের মানুষ সকলে সুখ পাওয়ার জন্য তার পেছনে অবিরাম ছুটছে। কিন্তু সুখ কি মানুষে মানুষের মধ্যে মিলন ঘটায়? বলা যায় এই সুখ মানুষে মানুষের মধ্যে মিলন না ঘটিয়ে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে। কেননা সুখ একই শিখায় সবাইকে জ্বালিয়ে রাখতে  পারে না। সুখ বিষয়টি স্বার্থপরতার দিক। এটি মানুষের ঐক্য সৃষ্টি না করে অনৈক্যের জন্ম দেয়। তাহলে মানুষে মানুষের মধ্যে মিলন ঘটায় কি দ্বারা? বলা যায় শিল্প, স্বদেশ, বিজ্ঞান, ন্যায়পরায়নতা-এগুলো দ্বারা সৃষ্টি হয় ঐক্যের বিনষ্ট হয় অনৈক্য।’ অস্থীর চিত্তের মানুষ সুখকে নিজের হাতে ধরার জন্য ‘সুখবাদ’ বা ‘উপযোগবাদ’ নামক মতবাদ প্রণয়ন করেছেন। তারপরও সুখ মানুষের নাগালের বাইরেই থেকে গেল।

‘পূর্বক্ষণ’-এই বিখ্যাত উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে রুশ অভিজাত পরিবারের মেয়ে এলেনা নিকলায়েভনা এবং বুলগেরিয় বিপ্লবী ইনসারভ-এর আত্মত্যাগী প্রেম। এলেনার মা আন্না ভাসিলিয়েভনা স্তাখব মাত্র সাত বছর বয়সে তার বাবা-মা’কে হারায়। সে তার বাবা-মায়ের জমিদারির উত্তরাধিকারিণী হয়ে প্রিন্স আরদালিওন চিকুরাসভ-এর অভিভাবকত্বে লালিত-পালিত হয়। পঁচিশ বছর বয়সী নিকলাই আরতেমিয়েভিচ স্তাখব বিয়ে করেন আন্না ভাসিলিয়েভনাকে। নিকলাই আরতেমিয়েভিচ স্তাখব-এর বাবা ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন। ষোল বছর বয়সী স্তাখব একটি সামরিক স্কুলে ভর্তি হয়ে সেখানকার পাঠ চোকে ‘জারের রক্ষী সৈন্যদল’-এ বহাল হন।

আন্না ভাসিলিয়েভনাকে বিয়ে করায় যৌতুক হিসেবে যে জমিদারী পেয়েছিলেন তা দেখাশোনার জন্য সৈন্যদল থেকে অবসর গ্রহণ করতে হয় স্তাখবকে। অল্প কিছুদিন থাকার পরেই গ্রাম্য জীবন ভালো না লাগায় স্ত্রীর বাড়ি মস্কোতে চলে আসেন। বাড়িতে তার জীবন একঘেয়ে হওয়ার কারণে জার্মান এক বিধবার সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্কে আবদ্ধ হন তিনি। বেশিরভাগ সময় বিধবা মহিলার বাড়িতেই কাটান স্তাখব। বিধবার বাড়িতে অবস্থান করলেও তার সঙ্গে তেমন কথাবার্তা হতো না। যে কথা হতো তা-ও আবার তর্ক করার জন্য হতো।

পাভেল য়াকভলেভিচ শুবিন আন্না ভাসিলিয়েভনার দূর সম্পর্কের আত্মীয়। শুবিনের বাবা মস্কোয় সিভিল সার্ভিসে ছিলেন। ছোট বেলায় শুবিনের ভাস্কর্যের দিকে ঝোঁক ছিল। ঊনিশ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল বিভাগে ভর্তি হয়। ডাক্তারি পড়াশোনায় বিন্দুমাত্র ঝোঁক না থাকায় মস্কোর আশেপাশে রুশী শিল্পীদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াত। বাস্তবিকই তার প্রতিভা ছিল বিধায় কোন অধ্যাপককে তুয়াক্কা করতো না। তার মা তাকে ফরাসী শিখিয়েছিলেন। যক্ষায়  অল্প বয়সে তার মা মারা যাওয়ার আগে আন্না ভাসিলিয়েভনাকে রাজি করিয়েছিলেন শুবিনকে দেখাশোনা করার জন্য। সেই সময় থেকেই শুবিন ভাসিলিয়েভনার বাড়িতে একটি ছোট ঘর নিজের দখলে নিয়েছেন।

জোয়াকে ভাসিলিয়েভনা নিযুক্ত করেছিলেন এলেনার সঙ্গী হিসেবে। এলেনা বেরসেনেভ আর শুবিনের আলোচনা হয়। এলেনা প্রশ্ন করলেন, ‘আপনি ইতিহাসের অধ্যাপক হতে চান? উত্তরে হ্যাঁ বলে যুক্ত করেন সম্ভব হলে দার্শনিকও। শুভিন উচ্চস্বরে বলে উঠেন, এমনিতেই দর্শন ও খুব ভালো করেই জানে।’ আমাদের অবিদিত নয় কিছু সরদার ফজলুল করিম সম্পর্কে। তিনি দর্শন শাস্ত্রে পড়াশোনা করেছেন। জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক স্যার তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপনা করতে বলেন। দার্শনিক মাত্রই সকল বিষয়ের জ্ঞান রাখেন। আর যিনি জ্ঞানী তিনি চুপ করে থাকেন। কথায় কথায় এলেনা জানতে পারলেন বেরসেনেভের বাবা মারা যাওয়ার আগে তার নিকট একটি পান্ডুলিপি রেখে যান। তার বাবা ছিলেন জার্মান দার্শনিক শেলিঙ-এর অনুসারী।

নয় বছর বয়সে  কাতিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় এলেনার। অল্প কয়দিনেই কাতিয়া মারা গেলে ভেঙ্গে পড়েন এলেনা। কাতিয়া ছিল ভিখারী মেয়ে। নিষ্ঠুর প্রকৃতির এক বুড়ির আশ্রয়ে থাকত আর প্রায়ই তার হাতে মার খেত। কাতিয়া তাকে ঘৃণা করত আর বলত, “তার কাছ থেকে সে পালিয়ে গিয়ে ‘ঈশ্বরের স্বাধীন পৃথিবীতে’ থাকবে।” কাতিয়া আর তার মুখের কথা নিয়ে ভাবতে থাকেন এলেনা। ‘ঈশ্বরের স্বাধীন পৃথিবী’  ঈশ্বর’ই তো এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন আবার এর বাইরে স্বাধীন পৃথিবী আবার কি? মানুষ ঈশ্বরের পৃথিবী নিজেদের দখলে নিয়ে গেছে। অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার, জুলুম, খুন, হত্যা এগুলোতে পৃথিবী আজ ভরপুর। স্বাধীন পৃথিবী এর বিপরীত।

বেরসেনেভ গ্রীষ্মাবাসে নিমন্ত্রনের জন্য মস্কো শহরে গেলেন বুলগেরিয় বন্ধু দমিত্রি নিকানবিচ ইনসারভ-এর খোঁজে। ইনসাভ অন্য বিভাগের ছাত্র হলেও ঘটনাচক্রে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় বেরসেনেভের। ইনসারভ মস্কোতে পড়াশোনা করতে এসেছেন মূলত নিজের দেশকে স্বাধীন করার  জন্য। বুলগেরিয়া  যখন স্বাধীন রাজ্য ছিল তিরনভো ছিল তার রাজধানী। সেখানেই তার বাবা সোফিয়ার  ব্যবসা করতেন। সেই সুবাধে রাশিয়ার সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। ১৮৩৫ সনে ইনসারভের মা গুম হয়ে যায়। প্রায় এক সপ্তাহ পর তার মৃত দেহ গলা কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। গুজব শোনা যায় এক তুর্কি আগা তাকে চুরি করে  নিয়ে গিয়ে খুন করে। সবকিছু জেনে ইনসারভের বাবা প্রতিশোধ নেবার চেষ্টা করলে আগাকে কেবল ছোরা দিয়ে সামান্য জখম করলে তাকে (ইনসারভের বাবা) গুলি করে মারা হয়। এই অবস্থায় ইনসারভের পিসি তাকে নিজের কাছে নিয়ে যায়।

১৮৪৮ সনে  ইনসারভ সোফিয়া আর তিরনভোয়াতে ফিরে যান এবং বুলগেরিয়ার সর্বত্র ঘুরে বেড়ায়। দুই বছর সেখানে অবস্থান করায় তুর্কি সরকার তাকে নির্যাতন করে। ১৮৫০ সনের দিকে তিনি রাশিয়ায় ফিরে আসেন শিক্ষা সম্পূর্ণ করার জন্য।
কুনৎসভোর এসে ইনসারভের অনেক কাজ করতে হচ্ছে। রুশী ইতিহাস, রাজনীতি, আইন পড়া, বুলগেরিয়ার গান এবং ঘটনাপুঞ্জি তর্জমা করা। প্রাচ্যের সমস্যা সম্পর্কে নানান তথ্যাদি সংগ্রহ করা। বুলগেরিয়ানদের জন্য একটি রুশী ব্যাকরণ আর রুশীদের জন্য বুলগেরিয়ান ব্যাকরণ লেখা। ইনসারভ যখন লেখায় ব্যস্ত তখন বেরসেনেভ তার ঘরে হাজির হয় ফয়েরবাখ নিয়ে আলোচনা করতে। বুলগেরিয়ার কথা জানতে চাইলে ইনসারভ ধীরে ধীরে তুর্কিদের নির্যাতন, দেশবাসীর দুঃখ-দুদর্শা এবং তাদের আশার কথা বলেন।

একদিন ইনসারভকে বেরসেনেভ স্তাখবদের বাসায় নিয়ে গিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন। নানান কথাবার্তায় এলেনার মনে ইনসারভের ছাপ পড়ে। হঠাৎ করে একদিন কাউকে না জানিয়ে ইনসারভ উদাও হয়ে যায়। চলে যাওয়ার দিন দু’য়েক আগে তার নিকট বুলগেরিয়ান দু’জন লোক আসেন। তারা স্লাভনিক ভাষায় চেচিয়ে আলাপ আলোচনা করেছিলেন। তাদের বয়স আনুমানিক চল্লিশ গায়ে ধূলিমাখা জীর্ণ পোষাক ঘামে ভেজা। তাদের সঙ্গেই ইনসারভ চলে যায়। কোথায় গিয়েছিলেন জানতে চাইলে ইনসারভ বলেন- 
‘আমাদের নিয়ে এখানে একটা ছোট সংসার আছে। আমি গিয়েছিলাম ক্রইৎস্কি পোসাদে… সেখানে আমার দেশবাসী জড়িয়ে সেটা কখনোই তুচ্ছ ব্যাপার হতে পারে না। যেতে আপত্তি করলে অন্যায় হতো।’
এলেনার প্রশ্ন, ‘নিজের দেশকে কি আপনি খুবই ভালোবাসেন?’
ইনসারভের উত্তর, “সেটা এখনো বলা যায় না। নিজের দেশের জন্য যতক্ষণ না কেউ প্রাণ দেয় ততক্ষণ বলা যায় না সে তার দেশকে ভালোবাসে। দেশকে ছাড়া আর কাকে ভালোবাসা সম্ভব? এমন একমাত্র কি বস্তু আছে যা শাশ্বত, যা সব সন্দেহের অতীত ঈশ্বরের পরেই যাকে বিশ্বাস না করা অসম্ভব? এই দেশ যখন আপনাকে চায়… মনে রাখবেন বুলগেরিয়ারর সবচেয়ে গরিব চাষী, হীনতম কাঙালীর সঙ্গে আমিও একই জিনিসের প্রার্থী। আমাদের সবারই উদ্দেশ্য এক।”
ইনসারভের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর থেকেই এলেনা ডায়রি লিখতেন। নানান কথার উপকথা লিখে শেষে লিখেছেন, ‘একটা আলো পেয়েছি দেখতে! হে ভগবান, আমায় করুণা কর। আমি প্রেমে পড়েছি।”-এই কথাগুলো যখন সে লিখছে তখন ইনসারভ বেরসেনেভের ঘরেই বসা। ইনসারভ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আগামীকাল শহরে চলে যাবেন। কেন যাবেন এর কৈফিয়ত কাউকে দেন না।

বেরসেনেভের মুখে ইনসারভের চলে যাওয়ার কথা শুনে এলেনার মনে হল সে যেন আকাশ থেকে ভূমিতে পড়ল। কারণ জানতে চাইলে বেরসেনেভ বলেন, “গত বসন্তকালের কথায় আমাকে ফিরে যেতে হবে, যখন ইনসারভকে আমি ভালো করে চিনতে পারি তখন এক আত্মীয়ের বাড়িতে তার সঙ্গে আমার দেখা হয়। সে আত্মীয়ের একটা মেয়ে ছিলো-ভারি সুন্দরী। মনে হয় তাকে ইনসারভের বেশ ভালো লেগেছিল। সে-কথা তাকে বলি। সে হেসে বলেছিল আমার ভুল হয়েছে, কারণ তার হৃদয়ে কোনো দাগ পড়েনি। বলেছি সে ধরনের কিছু ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে সে চলে যেতো কারণ, সে বলেছিল, ব্যক্তিগত বাবাবেগকে তৃপ্ত করার জন্য সে তার উদ্দেশ্য আর কর্তব্যকে জলাঞ্জলি দিতে পারে না। সে বলেছিল, আমি বুলগেরিয়ান, রুশী প্রেম চাই না।”

ইনসারভের সঙ্গে তার বাড়িতে দেখা হলেই এলেনা বললেন, “জানি কেন এসেছেন। আপনার সঙ্কল্পের কথা আন্দ্রেই পেত্রভিচ বলেছেন। কিন্তু আমার সনির্বন্ধ অনুরোধ আজ আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেবেন না।… আপনার সাথে কতগুলো কথা কইতেই হবে।”
পরদিন এলেনা অপেক্ষার প্রহর গুণছেন। কখন আসবে ইনসারভ। বেলা এগারোটা পার হয়ে বারোটা বাজে। বারো পার হয়ে যখন একটা বাজে তখন এলেনা চমকে ওঠলেন। বিদায় না নিয়ে ইনসারভ চলে যাবেন কথাটা মনে হতেই গায়ে মাথায় রক্ত টগবগিয়ে উঠল। নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। চোখ দু’টি জলে ভরে গেল। স্থির থাকতে না পেরে বিচানায় আচড়ে পড়ল। চোখের জলে বালিশ ভিজে গেল।

ভারাক্রান্ত মনে এলেনা বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলেন। খেয়াল নেই কালো মেঘে সূর্য অদৃশ্য হয়ে গেছে। চারদিকে বাতাস শোঁ শোঁ শব্দ করছে। বাতাস যেন তার কানের কাছে প্রিয়তম ইনসারভের কথাই বলতেছে। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই আশ্রয় নিয়েছেন এক জীর্ণ উপাসনালয়ে। সেখানে দেখা হল এক ভিখারীর সঙ্গে। তাকে দেওয়ার মত কোন পয়সা না থাকায় নিজের রুমালটি বুড়িকে দান করেন। রুমালটি চোখের জলে ভেজা থাকার কারণে বুড়ি বললেন—
‘আমি জানি কিসের জন্য তুমি অতো দুঃখ পাচ্ছো, তোমার বাবা মাকে হারিয়েছ বলে নয়। একসময় মানিক আমিও ছেলেমানুষ ছিলাম, আমাকেও দুঃখ পেতে হয়েছে। সত্যিই হয়েছে… তুমি একটি ভালো লোকের দেখা পেয়েছ। সে চঞ্চল প্রকৃতির নয়। তাকে বিশ্বাস করা যায়। তাকে কিছুতেই ছেড় না-প্রাণপনে তাকে ধরে রাখ।” বৃষ্টি শেষ হতেই সূর্যের আলো সঙ্গে হারিয়ে গেলেন বুড়ি। উপাসনালয় থেকে বের হতেই বর্ষাতি গায়ে ইনসারভকে দেখতে পায় কিন্তু তার গলা দিয়ে কোন স্বর বের হচ্ছে না। শেষে কেবল একটিমাত্র স্বর ধ্বনিত হল ‘দমিত্রি নিকানরভিচ’। ‘আমি আপনাকে ভালোবাসি—এই কথাটি আপনি আমার মুখ থেকে শুনতে চেয়েছিলেন তো। তাই বললাম।’ এলেনাকে সজোরে বুকে চেপে ধরলেন ইনসারভ। মুখে কোনো কথা বললেন না। অনেক সময় মুখের ভাষার চেয়ে নিরবতার ভাষা ভাবকে বেশি প্রকাশ করে থাকে। মনে হল যেন স্বর্গীয় সুখের  প্রশান্তি এলেনার সর্বাঙ্গ ভয়ে গেল। এই স্বর্গীয় প্রশান্তি মৃত্যুকেও অর্থবহ এবং সৌন্দর্যমন্ডিত করে।

শিল্পীর কাজ হচ্ছে বিশুদ্ধ শিল্প সৃষ্টি করা। সাধারনের চোখে যা ধরা পড়ে না তা শিল্পীর চোখে ধরা পড়ে। শিল্পী তার শৈল্পিক নেত্রে ভবিষ্যতকে দেখতে পায়। শিল্পী শুবিন তার ঘরে বেরসেনেভকে নিয়ে নিজের তৈরি করা ভাস্কর্য দেখায়। প্রথম মূর্তির ঢাকনা খুলে বেরসেনেভ দেখল ইনসারভের চমৎকার আবক্ষ মূর্তি। যার নাম শুবিন দিয়েছে, ‘নিজের দেশকে বাঁচাবার জন্য বদ্ধপরিকার বীর।’ ইানসারভের মূর্তিতে সততা, ভদ্রতা এবং পৌরুষের ভাব ফুটিয়ে তুলেছেন শুবিন। এলেনা নিকলায়েভনার জন্মদিনে তাকে এটি উপহার দেবেন।

কুরাতভস্কির সঙ্গে এলেনার বিয়ে দিতে চায় স্তাখব। কুরনাতভস্তি সেনেটের প্রধান সেক্রেটারি এবং সুগঠিত দেহের অধিকারী।
এলেনার মন জুড়ে আছে কেবল ইনসারভ আর ইনসারভের মন জুড়ে আছে বিপ্লব যেকোনো মূল্যে বুলগেরিয়াকে স্বাধীন করতে হবে। ডাকে নিপদ নয় বলে চিঠিগুলো একজন দূতের মাধ্যমে এসেছিল। সেই চিঠি পড়ে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়লেন, ‘ভ্যানুব রাজশাসিত রাষ্ট্রগুলি রুশী সৈন্য দখল করে বসায় সবাই চঞ্চল হয়ে গেছে। ঝড় উঠেছে যুদ্ধ আসন্ন বলে মনে হয়। মহাযুদ্ধের সূত্রপাত সর্বত্র দেখা দিচ্ছে। কেউই আগে থেকে বুঝতে পারছে না কোন দিকে অগ্নিকান্ডটা মোড় নেবে কিংবা কোথায় সেটা থামবে। পুরনো অভিযোগগুলো আবার জেগে উঠেছে, জেগে উঠেছে আবার পুরনো আশাগুলো। ইনসারভের  বুকের স্পন্দন আরও বেড়ে গেল: তার আশাগুলো সফল হতে চলেছে।’ এমন সময় এলেনা তার ঘরে  প্রবেশ করলে তিনি চিঠিগুলো তাকে দেখিয়ে বললেন— ‘এলেনা, এ চিঠিগুলো বুলগেরিয়া থেকে এসেছে। বন্ধুরা আমায় ডেকেছে। এলেনার উত্তর, আমাকে তুমি সঙ্গে করে নিয়ে যাবে তো? …তুমি আশ্চর্য মেয়ে, কী তোমার সাহস। কী মিষ্টি তোমার কথাগুলো! কিন্তু আমার বাড়ি নেই, আমি একেলা লোক। আমার সঙ্গে তোমাকে টেনে নিয়ে যাওয়া কি পাপ আর পাগলামি নয়? স্ত্রীরা যুদ্ধে যায় না? বিষন্ন হেসে সে, মৃদু স্বরে বললেন।’

ইনসারভকে যে দর্জি ঘর ভাড়া দিয়েছিলেন তিনি বেরসেনেভকে খবর দিলেন ইনসারভ অসুস্থ অবস্থা খুবই খারাপের দিকে। বেরসেনেভ দেরী না করে গিয়ে দেখেন ইনসারভ অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন। চিকিৎসার জন্য ডাক্তার ডাকা হল। চিকিৎসা করে ডাক্তার বললেন সাঙ্ঘাতিক নিউমোনিয়া হয়েছে। একনাগারে আট দিন ইনসারভের প্রাণ নিয়ে টানাটানি চলে। ডাক্তার নিয়মিত এসে দেখে যাচ্ছেন। বেরসেনেভ সর্বদাই তার সঙ্গে আছেন। সঙ্কটাপন্ন অবস্থার কথা শুনে বুলগেরিয়া থেকেও অনেকেই এসেছেন তাকে দেখতে। অবশেষে নবম দিনে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে আসলেন ইনসারভ। বেরসেনেভ তার বাবার মুখের কথা স্মরণ করতে লাগলেন, 
‘শোন তুমি, আমি, আমরা কেউই অলকপুরীর লোক নই, আমারা অভিজাত সম্প্রদায়ের নই, নই ভাগ্য বা প্রকৃতির প্রিয়পাত্র, কিংবা বীর শহীদও নই। আমরা হলাম মজুর। অতএব মজুর, তোমার চামড়ার এপ্রাণটা পরো তারপর তোমার অন্ধকার কারখানায় তোমার বেঞ্চিতে যাও। আর সূর্য, সে আলো দিক অন্যদের। তবু গর্ব করার মতো কিছু বস্তু আমাদের এ তুচ্ছ জীবনেও আছে।’

প্রাচ্যে যুদ্ধের ঝড় ঘনিয়ে এসেছে তুরস্ক রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল। রাজশাসিত রাষ্ট্রগুলি থেকে সৈন্য অপসারনের মেয়াদ পেরিয়ে গেল, সিনপের বিপর্যয় ঘনিয়ে এসেছে। হলের মধ্যে ইনসারভ যে চিঠিগুলো পেয়েছিলেন তাতে জোর দিয়ে বলা হয়েছিল সে যেন দেশে ফিরে। চিঠি হাতে পেয়ে জ্বর-কাশি উপেক্ষা করেই তিনি মস্কোতে লুকিয়ে  বিভিন্ন লোকের সঙ্গে দেখা করেছেন। সমস্ত রাত লিখে পার করছেন আর সারাদিন বাইরে বাইরেই কাটাচ্ছেন। 
এলনার আর ইনসারভের প্রেমে কাহিনী জানতে পেরে স্তাখব বললেন— ‘বিয়ে হয়েছে! ঐ ইতর মনটেনেগ্রিনরে সঙ্গে বিয়ে হয়েছে। বনেদী বংশের নিকলাই স্তাখবের মেয়ের বিয়ে হয়েছে এক বাউন্ডুলে, হতচ্ছাড়া, লিবার‌্যালের  সঙ্গে।… তুমি কি ভেবেছ এটা আমি বরদাস্ত করব? কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করব না?… আমি তোমাকে মঠে পাঠিয়ে দেব আর ওকে পাঠাব কয়েদ খানাতে। আন্না ভাসিলিয়েভনা, দয়া করে এই মুহুর্তে ওকে বলে দিন যে ওকে আপনি ত্যাজকন্যা করেছেন।’

ইনসারভের বুলগেরিয়ায় যাওয়ার দিন তাকে বিদায় জানানোর জন্য সকলেই এসে হাজির হয়েছেন সঙ্গে যাবেন এলেনা। অসুস্থ থাকার কারণে রাশিয়া থেকে আসার পথে ভিয়েনা হাসপাতালে দু’দিন ছিলেন ইনসারভ। আশা ছিল ভেনিস থেকে জারার ভিতর দিয়ে সেরবিয়া ও বুলগেরিয়া যাবেন। অন্য সকল রাস্তা বন্ধ। বৃটেন এবং ফ্রান্স রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। সব স্লাভ দেশগুলো উত্তেজিত অবস্থায় বিদ্রোহের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। গরিব দালমাশীয় জেলেরা বুলেট তৈরি করার জন্য তাদের সীসের কাঠিগুলো দিয়ে দিয়েছে। তাদের টাকা নেই, মাছ ধরাই তাদের জীবিকা। কিন্তু সানন্দেই তারা তাদের শেষ সম্বল দিয়েছে। এখন তারা উপোষ করে আছেন।
ইনসারভের অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। এলেনা জানালার ধারে দাঁড়িয়ে ভাবছেন, “প্রত্যেক মানুষের সুখের মূলে রয়েছে অন্য একজনের দুঃখ।…একজনের লাভ ও সুবিধার জন্য দরকার অন্য একজনের ক্ষতি ও অসুবিধা।” ইনসারভ রেন্দিচ-এর খোঁজ করছেন যুদ্ধের খবর জানার জন্য। এমন সময় লুপয়ারভ ঘরে প্রবেশ করলেন যুদ্ধের সংবাদ নিয়ে। তিনি বলতে লাগলেন—
“শুনেছেন কি ড্যানিলে চূড়ান্ত যুদ্ধ হয়ে গেছে? তিনশো তুর্কি অফিসার নিহত হয়েছে, সিলিস্ত্রিয়া অধিকৃত হয়েছে, সেরবিয়া ঘোষণা করেছে স্বাধীনতা। মনে হয় স্বদেশ প্রেমিক হিসাবে আপনি খুশি হবেন। আমার নিজের স্লাভ রক্তও ফুটছে। তবে পরামর্শ দেব সাবধান হতে।  আমি নিঃসন্দেহ যে আপনার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। শহরটা গুপ্তচরে ছেয়ে গেছে। একটা সন্দেহজনক লোক গতকাল আমার কাছে এসে জিগগেস করেছিল: আমি রুশী কিনা?”

তিনি আরও বললেন- ‘আমি বিখ্যাত জেলখানাগুলো ঘুরে এসেছি। আপনার মনে থাকতে পারে সামাজিক সমস্যা নিয়ে সবসময়ই মাথা ঘামিয়ে এসেছি, অভিজাত সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সর্বদাই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছি। অভিজাত সম্প্রদায়ের যারা পৃষ্ঠপোষক তাদের ঐ সব জেল দেখানো উচিত। বায়রন ঠিকই বলেছিলেন- I stood in venice on the Bridge of sing. কিন্তু তিনি নিজেও ছিলেন অভিজাত সম্প্রদায়ের লোক। সবসময় আমি প্রগতির পক্ষে। তরুণ যুগের সবাই প্রগতির পক্ষে।…প্রচুর আমরা দার্শনিকতা করেছি—এখন আমাদের দরকার হাতে কলমে কাজ করা।”

এ্যানুইরিজম আর ফুসফুসের অসুখে যেদিন ইনসাভ মারা গেলেন সেদিন রেন্দিচ এসে হাজির হয়েছেন। বুলগেরিয়ায় থাকাকালীন ইনসারভের সঙ্গে তার পরিচয়। সাহসী এবং কঠোর প্রকৃতির এই লোকটি স্লাভদের স্বার্থের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। মুক্তির জন্য দেশের মানুষ যার উপর নির্ভর এবং আশা করে আছেন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ বহন করে নিয়ে যাবেন রেন্দিচ। ইনসারভ যে দেশের জন্য নিজের প্রাণটা উৎসর্গ করেছেন সে দেশের মাটিতে চির বিশ্রাম নিতে পারলেন না। রেন্দিচ ইনসারভকে স্লাভ দেশে নিয়ে যাওয়া যায় কিনা সে চেষ্টা করছেন। এলেনা কফিনের পাশে পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে ভাবছেন, “আমাদের প্রত্যেকেই শুধু বেঁচে আছি বলেই এই শাস্তি প্রাপ্য। এমন কোনো মহান দার্শনিক নেই, মনুষ্য জাতির হিতকারী এমন কোনো মানুষ নেই যিনি নিজে যেসব কল্যাণ করেন তার বিনিময়ে বাঁচাবার অধিকার আছে বলে আশা করতে পারেন।”

জারায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে জাহাজে ওঠলেন এলেনা, রেন্দিচ এবং কালো কাপড়ে ঢাকা ইনসারবের মৃতদেহ। মধ্যরাতে ঝড় উঠলে দিনের বেলা তা আরও জোরালো হয়ে উঠে। “লয়েডের আপিসগুলোর অভিজ্ঞ নাবিকরা লাগলো মাথা নাড়তে, তাদের ভয় হলো সবচেয়ে খারাপ ঘটনাই ঘটবে। ভেনিস, ক্রিয়েস্ত আর দালামাশীয় উপকূলের মধ্যকার ভূমধ্যসাগর অত্যন্ত বিপজ্জনক।”

ভেনিস ছেড়ে যাওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পর এলেনা মস্কোয় আন্না ভাসিলিয়েভনাকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। চিঠিতে যা লেখা রয়েছে নিজের মুখেই পড়ি-
“শ্রীচরণেষু, বাবা আর মা, আমি তোমাদের কাছ থেকে চির-বিদায় নিচ্ছি। আমাকে তোমরা আর কখনো দেখতে পাবে না। গতকাল দমিত্রি মারা গেছে। আমার জীবনের সবকিছু হয়ে গেছে শেষ। তার মৃতদেহ নিয়ে আমি আজ জারায় যাত্রা করছি। আমি তাকে কবর দেব। আমার কি হবে তার কোনো ধারণাই নেই। কিন্তু এখন দ;র মাতৃভূমি ছাড়া আমার অন্য কোনো মাতৃভূমি নেই। সেখানে বিদ্রোহের তোড়জোড় চলছে, লোকেরা তৈরী হচ্ছে যুদ্ধের জন্য। আমি নার্সের কাজ করব, অসুস্থ আর আহত লোকদের করব সেবা। আমি জানি না আমার কী হবে, কিন্তু তার মৃত্যুর পরেও দ;র স্মৃতিই আমি বুকে করে রাখব, তার সমস্ত জীবনের উদ্দেশ্যের প্রতি বিশ্বাস হারব না। আমি বুলগেরিয় ও সেরবীয় ভাষা শিখেছি। খুব সম্ভব এ-সবের পর আমি আর বাঁচব না-সেটাই ভালো। এক খাড়া পাহাড়ের পাশে আমি এসে পড়েছি, আমাকে পড়তে হবে। দৈবক্রমে নিয়তি আমাদের মিলন ঘটাইনি। হয়তো আমিই তাকে মেরে ফেলেছি। এখন তার পালা আমাকে টেনে নামানো। আমি আনন্দ খুজেছিলাম, তার বদলে হয়তো মৃত্যুকে পাব। আমার মনে হয়, হয়তো এরই দরকার ছিল। মনে হচ্ছে বাস্তবিকই আমি পাপ করেছি… কিন্তু মৃত্যু সব ঢেকে দেয়, সবকিছুর মিলন ঘটায়, তাই না? তোমাদের যত দুঃখ দিয়েছি তার জন্য ক্ষমা কর। আমার অন্য উপায় ছিল না। আর রাশিয়ায় ফিরে যাবার কথা, কেন ফিরব? রাশিয়ায় করার কী আছে?
আমার শেষ চুম্বন আর প্রণাম গ্রহণ কর। আমাকে অভিশাপ দিও না।”
-“এ”
এই ঘটনার পর এলেনার আর কোনো খরব পাওয়া যায়নি। স্তাখব নিজে গিয়েছিলেন ভেনিস এবং জারায়। সেখানে গিয়েও তাদের কোনো সন্ধান পায়নি। 
“গুজব শোনা গিয়েছিল যে কয়েক বছর আগে সেই জোরালো ঝড়ের পর তীরে একটা কফিন ভেসে এসেছিল। তার মধ্যে ছিল একটি পুরুষের মৃতদেহ। অন্য আরও বেশী নির্ভরযোগ্য খবর অনুযায়ী কফিনটা মোটেই তীরে ভেসে আসেনি। এক বিদেশী মহিলা কফিনটা এনে তীরে কবর দিয়েছিলেন। তিনি এসেছিলেন ভেনিস থেকে। এমন লোকও ছিল যারা বলেছিলেন যে তারপর সেই মহিলাকে দেখা যায় এক সৈন্যদলের সঙ্গে হেরজেগোভিনায়। সৈন্যদলটা তখন গঠিত হচ্ছিল। তারা এমন কি তাঁর পোষাকের বর্ণনাও দেয়-মাথা থেকে পা পর্যন্ত কালো। যাই ঘটুক না, চিরকালের মত এলেনার সবকিছু মুছে গেল। কেউই জানে না সে এখনো বেঁচে আছে, নাকি লুকিয়ে আছে, নাকি জীবনের সংক্ষিপ্ত খেলা, জীবনের হালকা বুদ্বুদ শেষ হয়েছে আর মৃত্যু আদায় করে নিয়েছে তার মাশুল।”

আন্না ভাসিলিয়েভনা এখন বুড়িয়ে গেছেন। অগস্তিনার সঙ্গে স্তাখবের ছাড়াছাড়ি হয়ে গিয়েছে। জোয়ার বিয়ে হয়েছে। বেরসেনেভ বার্লিন আর প্যারিস ঘুরছেন দক্ষ অধ্যাপক হবেন বলে। দু’টি প্রবন্ধ রচনা করেছেন, ‘বিচার করে শাস্তি দেবার ক্ষেত্রে প্রাচীন জার্মান আইনের কতকগুলি বিশেষত্ব’ অপরটি ‘সভ্যতার বিষয়ে পৌর আদর্শের গুরুত্ব’। শুবিন শিল্প সাধনায় নিজেকে উৎসর্গ করেছে। তিনি প্রসিদ্ধ এবং প্রতিভাবান তরুণ ভাস্করদের মধ্যে অন্যতম বলে বিবেচিত হয়েছেন। তার একটি ভাস্কর্যে দেখানো হয়েছে, “বসন্ত দেবতার বুকে এক তরুণী গ্রাম্য কুমারী প্রেমের জন্য আকুল হয়ে উঠেছে।”

শুবিন উভার ইভানভিচকে এক চিঠিতে লিখেছেন- “যে রাতে বেচারা এলোনার বিয়ের খবর পাই সে রাতে আপনি আমায় বলেছিলেন মনে আছে, যখন আপনার বিছানায় বসে আপনার সঙ্গে আমি গল্প করছিলাম? মনে আছে আমি আপনাকে প্রশ্ন করেছিলাম-রাশিয়াতে মানুষের মতো মানুষ কখনো জন্মবে কিনা? আপনি আমাকে জবাব দিয়েছিলেন ‘আসবেন তাঁরা।’ হে কালো মাটির প্রাণরস এখান থেকে, আমার ‘আশ্চর্য দূরত্ব’ থেকে আবার প্রশ্ন করছি: উভার ইভানভিচ, সত্যিই কি তাঁরা আসবেন?”

কেবল রাশিয়ায় নয় যুগে যুগেই পরাধীন দেশে পরাধীন মানুষকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে এ পৃথিবীতে ইনসারভের মতো মানুষের আগমন ঘটে।

লেখক, সহ-সম্পাদক, খবরওয়ালা।