খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর স্থলবাহিনীর নতুন কমান্ডার হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কারামিকে নিয়োগ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) জারি করা এক সরকারি ফরমানে এই নিয়োগ ঘোষণা করা হয়। ইরানের একটি আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি ও বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
এই পদে তিনি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন, যিনি এক সপ্তাহ আগে আইআরজিসির প্রধান হিসেবে পদোন্নতি পান। পাকপুর এই দায়িত্ব পেয়েছেন ইসরায়েলি হামলায় আইআরজিসির সাবেক প্রধান হোসেইন সালামি নিহত হওয়ার পরপরই।
নিয়োগপত্রে আয়াতুল্লাহ খামেনি নতুন কমান্ডারের অভিজ্ঞতা ও সামরিক দক্ষতার প্রশংসা করেন এবং আইআরজিসির স্থলবাহিনীর সামরিক প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেন।
আইআরজিসির নেতৃত্বে এই রদবদল এমন এক সময় হলো, যখন ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নতুন মাত্রায় প্রবেশ করেছে। ১৩ জুন ভোরে ইসরায়েল রাজধানী তেহরানের একাধিক আবাসিক অঞ্চল এবং ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
হামলায় নিহত হন ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসেইন বাকেরি, আইআরজিসির কমান্ডার হোসেইন সালামি, খাতামুল আনবিয়া হেডকোয়ার্টারের প্রধান গোলাম আলি রাশিদ, আইআরজিসির মহাকাশ ইউনিটের কমান্ডার আমির আলি হাজিজাদেহ, এবং অন্তত নয়জন পারমাণবিক বিজ্ঞানী।
হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, ‘এই অপরাধের মাধ্যমে জায়নিস্ট শাসকগোষ্ঠী নিজেদের জন্য এক তীব্র ও যন্ত্রণাময় পরিণতি ডেকে এনেছে, যা তারা অবশ্যই প্রত্যক্ষ করবে।’
বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসির স্থলবাহিনীর নতুন কমান্ডার নিয়োগে এক সপ্তাহ সময় নেওয়ার ঘটনা ইঙ্গিত দেয়, ইরান এখন সতর্ক ও কৌশলগতভাবে তার সামরিক কাঠামো পুনর্গঠন করছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কারামির অতীত দায়িত্ব ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে স্থলবাহিনীর নেতৃত্ব দিতে উপযুক্ত বলেই তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হয়েছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি, বিবিসি
খবরওয়ালা/আরডি