খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে আষাঢ় ১৪৩২ | ২১ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইসরায়েল-ইরান চলমান উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়াবে কি না, সে বিষয়ে তিনি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন। তার এই মন্তব্য এসেছে এমন সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে এবং সংঘর্ষ প্রশমনে ইরান ও ইউরোপীয় উদ্যোগে চাপ সৃষ্টি করছে।
সম্ভাব্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি
রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলের বিমান হামলায় সরাসরি অংশ নেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে পড়বে। এই আশঙ্কায় কিছু ঘাঁটি থেকে বিমান ও নৌযান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যস্থ সবচেয়ে বড় সামরিক স্থাপনা।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে এফ-১৬, এফ-২২, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে, যা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে সক্ষম। এছাড়া ইউরোপ থেকে পাঠানো হয়েছে বহু ট্যাংকার বিমান, এবং ইউএসএস নিমিৎজ বিমানবাহী রণতরী যোগ দিচ্ছে ইউএসএস কার্ল ভিনসনের সঙ্গে। দিয়েগো গার্সিয়ায় বি-৫২ বোমারু বিমানও দেখা গেছে।
ইসরায়েলের পক্ষে একা সম্ভব নয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো—বিশেষ করে ফোরদো ও নাতাঞ্জ—ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের পক্ষে কার্যত অসম্ভব। ফোরদো স্থাপনাটি একটি পর্বতের নিচে ৮০-১০০ মিটার গভীরে অবস্থিত। এখানে উৎপাদিত হয় ইরানের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম।
যুক্তরাষ্ট্রের হাতিয়ার: বাঙ্কার বাস্টার বোমা
এই ধরনের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমান, যা বহন করতে পারে দুটি GBU-57A/B ম্যাসিভ অর্ডিন্যান্স পেনিট্রেটর—৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের বাঙ্কার বাস্টার বোমা। এই বোমা জিপিএস-নির্ভরভাবে ২০০ ফুট গভীর পর্যন্ত কংক্রিট ভেদ করে আঘাত হানতে সক্ষম।
তবে কেবল বোমা দিয়েই ফোরদো বা নাতাঞ্জ ধ্বংস সম্ভব কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ২০১২ সালের কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক রিপোর্টে বলা হয়, এসব স্থাপনায় সরাসরি ঢোকা না গেলেও সেন্ট্রিফিউজগুলো অকেজো করা সম্ভব হতে পারে। তবে সেগুলোর বিস্ফোরণ ও কম্পনের বিরুদ্ধে কতটা সুরক্ষা রয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
বিশেষ বাহিনী প্রয়োজন হতে পারে
কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ভারী বাঙ্কার বাস্টার বোমাও ইরানের গভীরতম স্থাপনাগুলোকে ধ্বংসে ব্যর্থ হতে পারে। ট্রাম্প যদি এই হামলায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তও নেন, তাহলে স্থাপনাগুলো ধ্বংসে শেষ পর্যন্ত মাটির নিচে অভিযান চালাতে সক্ষম বিশেষ বাহিনী পাঠাতে হতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত এখন সময়ের ব্যাপার। তবে তাদের প্রস্তুতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেকোনো সময় বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের দিকে পরিস্থিতি গড়াতে পারে। আর তাতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশ আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে—এমনটাই আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: রয়টার্স