খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: শনিবার, ২১ জুন ২০২৫
ফেনীর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্থানীয় এক বেকার যুবকের কাছে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরশুরাম উপজেলা সমন্বয়ক নাহিদ রাব্বির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় নাহিদ রাব্বিকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) রাতে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইফতেখার হাসান ভুঁইয়া বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন ঘুষ দাবি করা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘সমন্বয়ক’ নাহিদ রাব্বি ও চাকরিপ্রত্যাশী আবদুল কাদের। তাঁদের মধ্যে নাহিদ পরশুরাম পৌর এলাকার কোলাপাড়া গ্রামের নুরুন্নবীর ছেলে। আর কাদের অনন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম বেলাল হোসেন।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও মো. ইফতেখার হাসান ভূঞা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও শুনেছেন। ওই অডিওতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘সমন্বয়ক’ নাহিদ রাব্বি আবদুল কাদের নামের এক চাকরিপ্রত্যাশীর কাছে ঘুষ দাবি করেছেন। ২ মিনিট ২১ সেকেন্ডের অডিওতে নাহিদ রাব্বি ফেনী সিভিল সার্জন কার্যালয়ে অফিস সহকারী–কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে আবদুল কাদেরকে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেন। এমন ঘটনায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষা বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এজাহারভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নাহিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি। তবে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নাহিদ দাবি করেছেন, ফাঁস হওয়া অডিওটি এসআই দিয়ে তৈরি। তিনি এমন ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
তবে অডিওটির কথোপকথনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চাকরিপ্রত্যাশী যুবক আবদুল কাদের। যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, সমন্বয়ক পরিচয়দানকারী নাহিদ আগে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের আগে তিনি আন্দোলন–সংগ্রামে না থেকেও বিভিন্ন সময় নিজেকে সমন্বয়ক দাবি করে এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। মূলত তাঁর মুখোশ উন্মোচন করতে তিনি এমন কৌশল বেছে নিয়েছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফেনী জেলার সাবেক সমন্বয়ক ও বর্তমান ছাত্র প্রতিনিধি মুহাইমিন তাজিম বলেন, ফেনী জেলাসহ ছয় উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো কমিটি নেই। কোথাও কোনো সমন্বয়কও নেই। তবে জেলাসহ প্রতিটি উপজেলায় ছাত্র প্রতিনিধি আছে একাধিক জন। পরশুরামের নাহিদ রাব্বি একজন ছাত্র প্রতিনিধি। রাব্বি একজন ভালো মানের সংগঠক, তিনি এমন কাজ করতে পারেন, তা বিশ্বাস হচ্ছে না।
ফেনী জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ রুবাইয়েত বিন করিম বলেন, ‘স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় কোনো অনিয়ম হওয়ার সুযোগ নেই। যাঁরা লেনদেন করতে চাইছেন, তাঁরা বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন। সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ও মেধার ভিত্তিতে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।’
ঘুষ লেনদেনের অডিও ফাঁস হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই ঘটনায় ইতিমধ্যে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থাকে জানানো হয়েছে। তাঁরা এ বিষয়ে কাজ করছেন।’
ফেনী সিভিল সার্জন কার্যালয়ে শুক্রবার (২০ জুন) বিভিন্ন পদের জন্য নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১১৫টি পদের জন্য প্রায় ১২ হাজার আবেদন জমা পড়েছে, যেখানে প্রতিটি পদের জন্য গড়ে ১০৮ জন প্রার্থী প্রতিযোগিতা করছেন।
খবরওয়ালা/এসআর