খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫
আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ পাঁচজনকে বিভিন্ন মামলায় রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম তাজুল ইসলামকে আরেকটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার (২৩ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম এ আদেশ দেন।
দুজনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে আদালত পৃথকভাবে শাজাহান খানকে রিমান্ডে নেওয়ার এবং তাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন। পরে তাঁদের আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
যাত্রাবাড়ী থানার সাজেদুর রহমান ওমর হত্যা মামলায় সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ২১ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় একটি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হন ওমর। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ আগস্ট তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি শেখ হাসিনাসহ ৮১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন সৈয়দ তানভীর আহমেদ।
সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম তাজুল ইসলামকে রমজান মিয়া জীবন হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গত ৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান রমজান মিয়া। নিহতের স্বজন মোহাম্মদ জামাল মিয়া ২৯ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
কাজী মনিরুল ইসলাম মনুকে যাত্রাবাড়ীতে রিটন উদ্দিন হত্যা মামলায় এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তবে রাসেল হত্যা মামলায় তার রিমান্ড আবেদন নাকচ হয়েছে।
রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মোহাম্মদ সোহাইল, চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক চেয়ারম্যান, বদরুল ইসলাম সায়মন হত্যাচেষ্টা মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। এই মামলাটি ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশের সময় দায়ের হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের একাধিক সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন মামলায় দফায় দফায় তাদের রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে।
খবরওয়ালা/আরডি