খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক বিমান হামলার পর ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে মস্কোর ভূমিকা নিয়ে মুখ খুললেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
রাশিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা তাস জানায়, দীর্ঘদিনের মিত্র ইরানকে নিয়ে মস্কোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে বা রাশিয়া কেন ইরানকে সহায়তা করছে না— এমন প্রশ্ন যারা তুলছেন, তাদের ‘উস্কানিদাতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন পুতিন।
সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পুতিন বলেন, ‘‘প্রায় ২০ লাখ মানুষ, যারা সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন বা রাশিয়ার নাগরিক, তারা ইসরায়েলে বসবাস করছে। বলা যায়, ইসরায়েল আজ প্রায় রুশভাষী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। রাশিয়ার সমসাময়িক ইতিহাসে আমরা এটি সবসময় বিবেচনায় রাখি।’’
তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ মুসলিম এবং মস্কো ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার পর্যবেক্ষক সদস্য।
দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান রক্ষা করছে মস্কো। ইসরায়েলের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কও মজবুত করেছে রাশিয়া।
পুতিন উল্লেখ করেন, ইরানের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বুশেহর স্থাপনে রাশিয়াই সাহায্য করেছে এবং ইরানের সঙ্গে তাদের ‘বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক’ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা রাশিয়ার
রোববার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর রাশিয়া এ হামলাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ এবং ‘আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘‘এটি স্পষ্ট যে বিপজ্জনক এক উত্তেজনার সূচনা হয়েছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।’’
এর আগে পুতিন ইরান-ইসরায়েল সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মস্কো এমন একটি সমাধানের জন্য কাজ করতে পারে, যাতে তেহরান শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি চালাতে পারে এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তার আশঙ্কাও দূর হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘শাস্তি চলছে… সিয়োনি শত্রু বড় ভুল করেছে, বড় অপরাধ করেছে; তাকে শাস্তি পেতে হবে এবং শাস্তি পেয়েই যাচ্ছে।’ তবে খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
খবরওয়ালা/এন