খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ও অভিনয়শিল্পী নীলা ইস্রাফিল এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে অভিযোগ করেছেন, তিনি দলীয় ‘মব ট্রায়াল’-এর শিকার হয়েছেন। তার ভাষায়, “এটা বিচার নয়, বরং অপমান ও ডিজিটাল লিঞ্চিং”।
নীলা লেখেন, “রাজনীতিতে একজন নারী হিসেবে পথচলা সহজ নয়, সেটা জানতাম। শিল্পী হিসেবেও অনেক আগেই বুঝেছি। কিন্তু সত্য বলার পর, দলের ভেতর যে ভয়াবহ মানসিক নিপীড়নের মুখে পড়তে হবে, তা কল্পনাও করিনি।”
তিনি বলেন, “আমি শুধু চেয়েছি একটি নিরাপদ, সম্মানজনক জায়গা, যেখানে নীতির পক্ষে কথা বলা যাবে। কিন্তু যখন দলের অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুললাম, তখন কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। বরং ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ব্যক্তিগত গ্রুপে শুরু হয়ে গেল অপপ্রচার, কুৎসা রটনা, চরিত্রহননের চেষ্টা।”
নীলার দাবি, “এটা কোনো আইনি প্রক্রিয়া নয়, এটা একপ্রকার ডিজিটাল লিঞ্চিং। নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মত তৈরি করছে, গুজব ছড়াচ্ছে এবং আমার আত্মমর্যাদা ভাঙার চেষ্টা করছে।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এটাই কি দলীয় চেতনা ও নৈতিকতা, যার কথা বলে আমরা জনগণের সামনে দাঁড়াই? একজন নারী সদস্য যখন যৌন হয়রানির শিকার হন, তখন সবাই চুপ থাকেন। আর যখন তিনি প্রতিবাদ করেন, তখন শুরু হয় ঠাট্টা, সন্দেহ আর অপমানের বন্যা।”
তিনি আরও বলেন, “না, এ গণতন্ত্র নয়, এটা হাসিনার রেখে যাওয়া ফ্যাসিবাদ। এ এক ভয়ঙ্কর মব-সংস্কৃতি, যা সত্যকে চাপা দিতে চায়, আর ভুক্তভোগীকে অপরাধী বানাতে চায়।”
নীলা ইস্রাফিল জানান, “আমি ভয় পাই না। কারণ আমি জানি, আমি কোনো অপরাধ করিনি। শুধু বলেছি, ‘না, আমি মেনে নেবো না’। আমি স্বচ্ছ তদন্ত চাই, দলীয় অবস্থান চাই, সম্মানজনক বিচার চাই। আমি মব গ্রুপে নয়, সত্যের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে চাই।”
তিনি আরো যোগ করেন, “আপনারা ভাবতে পারেন, আমার লেখা বা তুষারের সঙ্গে রেকর্ডিং ছড়িয়ে মব তৈরির চেষ্টা করেছি। কিন্তু ভুল করছেন—ওটাই তুষারের অপরাধের প্রমাণ। একদিন সব সামনে আসবে। এই ঘুমহীন রাতগুলোর নীরব সাক্ষী আছে।”
শেষে নীলা শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “আমার ফোন যেকোনো সময় জব্দ হতে পারে, আমি হঠাৎ নিখোঁজও হয়ে যেতে পারি। তাই বাধ্য হয়েই বিষয়গুলো সামনে আনলাম।”
খবরওয়ালা/এমএজেড