খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ভারত। এতে সৌদি আরব ও ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমেছে।
ইকোনমিক টাইমস ও কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে ভারতীয় রিফাইনারিগুলো প্রতিদিন ২০–২২ লাখ ব্যারেল রাশিয়ার তেল আমদানি করেছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৩৯ লাখ ব্যারেল, যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারতের আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেলের নিচে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এবং ইরানের হুমকির প্রেক্ষিতে ভারত আগাম প্রস্তুতি হিসেবে আমদানি কাঠামো পুনর্বিন্যাস করেছে।
বিশ্বজুড়ে তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ ইতিমধ্যে বাংলাদেশের মতো দেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে মূল্যস্ফীতি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, শিল্প খরচ এবং বৈদেশিক বাণিজ্য জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশের জন্য এখনই সময় জ্বালানির বহুমুখীকরণ এবং সাশ্রয়ী ব্যবহারে নজর দেওয়ার।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল আমদানির সুযোগ কাজে লাগিয়েছে ভারত। ২০২২ সালের আগে যেখানে ভারতের তেলের ১ শতাংশেরও কম আসত রাশিয়া থেকে, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০–৪৪ শতাংশে।
বিশেষজ্ঞ সুমিত রিতোলিয়া জানান, পারস্য উপসাগরমুখী ট্যাংকার চলাচল কমে আসছে, যা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তবে ভারতের রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রমুখী কৌশল কিছুটা নিরাপদ বলে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এসব তেল হরমুজ প্রণালি হয়ে আসতে হয় না।
বর্তমানে ভারতীয় রিফাইনারিগুলো বিভিন্ন উৎস ও জাতের তেল পরিশোধনে সক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রেও নমনীয়তা অর্জন করেছে। ফলে তুলনামূলক ব্যয়বহুল হলেও যুক্তরাষ্ট্র, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকা থেকে তেল আমদানিও এখন কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠছে।
খবরওয়ালা/আরডি