খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫
মাসিক মোটা অঙ্কের বেতনের প্রলোভনে রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে জড়ানোর অভিযোগে মানবপাচার চক্রের চার সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
যশোর সদর উপজেলার বড় মেঘলা গ্রামের বাসিন্দা বজলুর রহমান মঙ্গলবার (২৪ জুন) যশোর মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁর ভাই জাফর হোসেনসহ আরও কয়েকজনকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে শেষ পর্যন্ত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, বর্তমানে জাফর হোসেন রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনের ডোনেৎস্ক শহরের এক যুদ্ধ ক্যাম্পে মাটির নিচের একটি বাঙ্কারে অবস্থান করছেন। মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, রুশ সেনাদের নির্যাতনের মুখে তাঁকে যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এক পর্যায়ে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় জাফরের ডান পায়ের পাজর ও উরুতে স্প্লিন্টার লাগে। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাঁকে আবারও যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, মূল অভিযুক্তরা হলেন—নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কলাবাড়িয়া পশ্চিমপাড়ার এস এম আবুল হাসান (চেয়ারম্যান, ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড), তার পার্টনার ফাবিহা জেরিন তামান্না (আশকোনার বাসিন্দা, ঢাকায়), চট্টগ্রামের আলমগীর হোসেন দেলোয়ার (লোহাগড়ার বাসিন্দা), এবং ঢাকার নয়া পল্টনের ‘ভ্যাকেশন প্ল্যানার্স’ মালিক শফিকুর রহমান।
মামলাকারী বজলুর রহমান দাবি করেছেন, এস এম আবুল হাসান ও ফাবিহা জেরিন তামান্না তাঁর ভাই জাফর হোসেনকে রাশিয়ায় ক্লিনার বা শেফস অ্যাসিস্টেন্ট পদে মাসে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা নেন। তাঁকে বলা হয়, সরাসরি রাশিয়া যাওয়া যাবে না, প্রথমে সৌদি আরব হয়ে যেতে হবে। এরপর ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর জাফরসহ ১০ জনকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। সেখান থেকে অভিযুক্ত শফিকুর রহমান তাদের রাশিয়ায় নিয়ে যান।
রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর আলমগীর হোসেন দেলোয়ার ও অন্যরা তাদের জানায়, সেনা ক্যাম্পে কাজ করতে হলে আগে ২০ দিনের প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এরপর তারা জাফরসহ সবাইকে রাশিয়ার এক সামরিক ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানেই জানা যায়, ওই ১০ জনকে এক বছরের জন্য ১৪ হাজার ডলারে রুশ বাহিনীর হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছে। ফলে তাদের বাধ্য হয়ে যুদ্ধে যেতে হয়।
মামলায় বলা হয়, এই অবস্থা জানতে পেরে আকরাম হোসেন নামে এক যুবক কৌশলে ক্যাম্প থেকে পালিয়ে দেশে ফিরে আসেন। অন্যদিকে জাফরসহ বাকিরা এখনো রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন।
এ ঘটনায় বিচারক ড. মো. আতোয়ার রহমান সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার কাজী মো. রেজওয়ান সেতু।
খবরওয়ালা/এমএজেড