খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের স্মারকগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীসহ ৫২ জন নাগরিক। তাঁদের মতে, এই আক্রমণ শুধু শিল্পবস্তুর ক্ষতিসাধন নয়, বরং এটি উদার গণতন্ত্র ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এক গভীর চক্রান্তের ইঙ্গিত বহন করে।
শনিবার (২৮ জুন) প্রকাশিত এই বিবৃতিতে তাঁরা কুমিল্লায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রূপকার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের স্মরণে নির্মিত ম্যুরাল ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাঁদের ভাষায়, এটি একটি নগ্ন অপতৎপরতা, যা ভাষাশহীদদের প্রতি অবমাননা এবং আমাদের স্বাধীনতা, ইতিহাস ও সংস্কৃতিবোধকে আঘাত করেছে। এটি জাতি হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা।
বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, প্রয়াত রফিকুল ইসলাম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন। তাঁর উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার ফলেই ইউনেসকো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যা আজ বিশ্বজুড়ে মাতৃভাষার মর্যাদার প্রতীক।
ম্যুরাল ভাঙার ঘটনা রফিকুল ইসলামের মতো একজন কর্মবীরের প্রতি চরম অবমাননাকর আচরণ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মাতৃভাষার সম্মান এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে নির্মিত প্রতিটি স্মৃতিচিহ্ন আমাদের ইতিহাস ও আত্মপরিচয়ের অপরিহার্য অংশ। সেই প্রতীকের ওপর আঘাত মানে আমাদের অস্তিত্ব ও মানবিক মূল্যবোধে সরাসরি আঘাত।’
বিবৃতিতে জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তাঁরা অভিযোগ করেন, ভাঙচুরের পরও প্রশাসন অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্লিপ্ত রয়েছে।
তাঁরা বলেন, ‘মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্মারক আমাদের জাতীয় গৌরবের প্রতীক। এসব প্রতীক রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা রফিকুল ইসলামের ম্যুরালসহ অন্যান্য স্মৃতিচিহ্ন ভাঙার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
এ ছাড়া রাজধানীর বিজয় সরণিতে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ ভাঙার প্রসঙ্গেও তাঁরা সমালোচনা করে বলেন, ‘আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় চেতনা ধরে রাখতে প্রতীক গড়ার প্রয়াস রাজধানীর অন্য উন্মুক্ত স্থানে নেওয়া যেত। এজন্য পূর্বস্থিত জাতীয় ঐতিহ্যের স্মারক ভেঙে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করার কোনো প্রয়োজন ছিল না।’
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন:
আবুল মোমেন, এম এম আকাশ, নুরুন নবী, ইসহাক খান, জাকির তালুকদার, সালাহউদ্দিন বাদল, অজয় দাশগুপ্ত, তাজুল ইমাম, ফরিদুর রহমান, মকবুল হোসেন, শাহেদ কায়েস, সরকার আবদুল মান্নান, সন্তোষ রায়, শওগাত আলী সাগর, রফিকুর রশীদ, ঝর্ণা রহমান, সেজান মাহমুদ, আতিকুল হক, মুকিদ চৌধুরী, হোসেন দেলওয়ার, মোজাম্মেল হক নিয়োগী, গোলাম মোর্শেদ, মোহাম্মদ আনওয়ারুল কবীর, হামীম কামরুল হক, শামীম আশরাফ, স্বকৃত নোমান, আরিফ নজরুল, মোহাম্মদ মাহমুদ হাসান, মনি হায়দার, সরদার ফারুক, ফজলুল কবিরী, আবদুল্লাহ আল ইমরান, শফিক হাসান, আলমগীর মাসুদ, মাসুদ পথিক, আরিফুর রহমান, মেহেদী হাসান, আবদুল্লাহ আল মামুন, শামস সাইদ, বিনয় কর্মকার, সালাহ উদ্দিন মাহমুদ, মিলন সব্যসাচী, এ কে এম মাহতাব ঊদ্দীন, গিরীশ গৈরিক, সমর চক্রবর্তী, গোলাম মুজতবা মর্তুজা, নিশাত বিজয়, জহিরুল হক, নাদিম ইকবাল, অনিরুদ্ধ দিলওয়ার, রাফায়েত চৌধুরী ও রাশিদা স্বরলিপি।
খবরওয়ালা/আরডি