খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে গোপন সম্পর্কের জেরে কথিত ‘সমন্বয়ক’ মো. মোজাহিদ ইমন ওরফে ইমাম (২৬) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয়রা। শনিবার (২৮ জুন) রাতে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাড়ি থেকে ওই নারীসহ ইমনকে আটক করা হয়।
ইমন একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা পোশাককর্মী হারুন অর রশিদ ও গৃহকর্মী কোহিনূর বেগম দম্পতির ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্ধুর বাড়িতে যাতায়াতের সুবাদে বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে ইমনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী নারীর স্বামী জানান, গত ২৫ এপ্রিল তাঁর স্ত্রী হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। ২৮ মে ফিরে এলেও ৩১ মে আবারও তিনি নিখোঁজ হন। এ সময় ইমন তাকে সান্ত্বনা দিয়ে থানায় অভিযোগ করতে বলেন এবং নিজেও থানায় উপস্থিত থাকেন।
শনিবার রাতে স্থানীয়দের কাছে খবর আসে যে, নিখোঁজ নারী ইমনের বাড়িতে অবস্থান করছেন। এরপর এলাকাবাসী গিয়ে দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে শতাধিক মানুষকে জড়ো হতে দেখা যায় এবং পুলিশের গাড়িতে ইমন ও ওই নারীকে তোলা হচ্ছে। এতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ইমনের প্রকৃত পরিচয় নিয়েও দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি। স্থানীয়দের কেউ নিশ্চিতভাবে তার পরিচয় জানাতে পারেননি। জানা গেছে, তিনি মূলত তার নানাবাড়িতে বড় হয়েছেন। মা কোহিনূর বেগম স্থানীয় একটি বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। ইমন দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও আর্থিক অভাবে শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারেননি এবং পরে একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ শুরু করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর নিজেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক’ পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন ইমন। এ সময় তিনি ছাত্র আন্দোলনের ছবি সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই পরিচয় ব্যবহার করে তিনি চাঁদাবাজি, মাটি কাটার ভাগাভাগি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে অর্থ নিয়ে তা চালু করার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। কিছুদিন আগে কাঁধে বিদেশি রাইফেলসহ তার একটি ছবি ভাইরাল হয়।
আটক নারীর স্বামী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার স্ত্রী গত ২৫ এপ্রিল বাড়ি থেকে চলে যায়। ২৮ তারিখে ফিরে আসে। পরে আবার ৩১ মে পালিয়ে যায়। আমি আজ জানতে পারি, ইমন তাঁকে নিয়ে কক্সবাজার গিয়েছিল। সে আমাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিল, থানায়ও নিয়ে গিয়েছিল। অথচ এক মাস ধরে সে আমার স্ত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে। আমার কাছে তার প্রমাণ আছে। কিন্তু থানা মামলা নিচ্ছে না।’
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘ইমন নামে একজনকে স্থানীয়রা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। ভুক্তভোগীর স্বামী লিখিত অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদিও নারীটি নিজে মামলা করেননি, তবুও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইন অনুসারে ইমনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনার পর রবিবার (২৯ জুন) ইমন ও ওই নারীকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় তাদের নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন। বর্তমানে তারা দুজনেই আদালতসংলগ্ন হাজতখানায় রয়েছেন। আগামীকাল (৩০ জুন) আবারও শুনানি হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খবরওয়ালা/আরডি