খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
ফেনী জেলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দায়ের হওয়া বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ২২৩টি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মেজবাহ উদ্দীন খান।
প্রসিকিউশন থেকে জানা গেছে, এসব মামলার মধ্যে ১৬৬টি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে, ৩৫টি বিশেষ ক্ষমতা আইনে এবং বিক্ষোভ-সমাবেশে হামলার ঘটনায় ২২টি মামলা রয়েছে।
এর আগে গত ১৫ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের আইন-১ শাখা থেকে জেলা পিপিকে এসব মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়। সহকারী সচিব মো. মফিজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী সরকার এসব মামলার প্রসিকিউশন না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জানতে চাইলে পিপি মেজবাহ উদ্দীন খান বলেন, আইন মন্ত্রণালয় থেকে ফেনী জেলা প্রশাসককে এসব মামলা প্রত্যাহারের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে তিনি তালিকাটি পেয়েছেন। এরপর আজ পিপি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা মামলাগুলো কোন আদালতে রয়েছে, তা বাছাই শুরু করেছেন। আগামীকাল বুধবার আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে মামলাগুলো প্রত্যাহারের আবেদন তাঁরা করবেন।
আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছিল বলে মনে করেন জেলা পৌর বিএনপির সদস্যসচিব মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া। তিনি বলেন,‘২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪–এর গণ–অভ্যুত্থান পর্যন্ত এসব মামলা করা হয়েছিল। বিশেষ করে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে এসব মিথ্যা মামলা করা হয়। বেশির ভাগ মামলার বাদী পুলিশ আর গায়েবি জনগণ।’
শুধু রাজনীতি করার কারণে এসব মিথ্যা মামলার শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, বছরের পর বছর জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েক হাজার নেতা–কর্মী মিথ্যা মামলায় জেল খেটেছেন, রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বাকি রাজনৈতিক মামলাগুলোও প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
খবরওয়ালা/এন