১০ গুণ বেশি দামে ইভিএম ক্রয়: ইসির ৩ কর্মকর্তাকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) কেনায় দুর্নীতির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তিন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (২ জুলাই) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এই জিজ্ঞাসাবাদ হয়। সহকারী পরিচালক রাকিবুল হায়াতের নেতৃত্বে তদন্ত দল এই জিজ্ঞাসাবাদ পরিচালনা করে।

জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নেওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন ইসির উপসচিব ফরহাদ হোসেন, সিস্টেম অ্যানালিস্ট ফারজানা আখতার ও তৎকালীন সিনিয়র মেইন্টেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন। দুদক সূত্রে জানা গেছে, এদিন নির্বাচন কমিশনের মোট ছয়জন কর্মকর্তাকে তলব করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন মিলে টেন্ডার ছাড়াই বাজারমূল্যের প্রায় ১০ গুণ বেশি দামে ইভিএম কেনার মাধ্যমে সরকারের প্রায় ৩ হাজার ১৭২ কোটি টাকার ক্ষতি করেছেন।

২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন প্রায় দেড় লাখ ইভিএম কেনে, যার জন্য বরাদ্দ হয় ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা। তখন প্রতিটি ইভিএমের দাম ধরা হয় প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, যদিও প্রকৃত বাজারমূল্য ছিল এর অনেক কম।

প্রকল্পে দাবি করা হয়—এটি উন্নতমানের ও ১০ বছর মেয়াদী ইভিএম। কিন্তু বাস্তবে ৫ বছরের মধ্যেই অধিকাংশ মেশিন অচল হয়ে পড়ে। এই ইভিএম ব্যবহার করে সংসদ, স্থানীয় সরকার ও উপনির্বাচন মিলে প্রায় দেড় হাজার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

দুদক জানায়, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তারা এই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। তদন্তে যাঁরা দায়ী বলে প্রমাণিত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

খবরওয়ালা/আরডি

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।