খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
গত অর্থবছরে পণ্য আমদানিতে খরচ হয়েছে ৭ হাজার ১১৪ কোটি ডলার, অন্যদিকে রপ্তানি আয় হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৮২৮ কোটি ডলার। এ কারণে দেশীয় বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের ওপরে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সরকার বিনিয়োগের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরির কাজ করছে, যার ফলে ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত অর্থবছরের শুরুতেই নানা সংকটের কারণে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে ধাক্কা লেগেছিল। কোটা আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ইত্যাদি নানা কারণে ব্যবসায়িক পরিবেশ ব্যাহত হয়। পাশাপাশি শ্রমিক অসন্তোষ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, উচ্চ সুদের হার ও মূল্যস্ফীতি সংকট আরও বাড়িয়ে তোলে। এনবিআরের আন্দোলনের কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম দু’দিন বন্ধ থাকাও ব্যবসায়িক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তারপরও, গত অর্থবছরে রপ্তানি আয় প্রায় ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। যদিও জুন মাসে ঈদের কারণে দীর্ঘ ছুটির প্রভাব ও মাস শেষে দুইদিন বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রপ্তানি আয় ৬ শতাংশের বেশি কমেছে। অন্যদিকে আমদানি ব্যয় ছিল ৭ হাজার ১১৪ কোটি ডলার। মোটমিলিয়ে দেশের বাণিজ্য পরিস্থিতি বেশ কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘আমরা গত অর্থবছরে ৭১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারের আমদানি বিল পরিশোধ করেছি, যা দেশের অর্থনীতির একটি বড় সক্ষমতার নিদর্শন। আমরা যথাযথভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণে সক্ষম হয়েছি। পাশাপাশি সরকার যেসব মেগা প্রকল্পের কিস্তি পরিশোধ করছে, সেগুলোর অর্থও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মিটছে।’
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে গতিশীলতা আনতে হলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি। বিশেষ করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে থাকা অনিশ্চয়তার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।
খবরওয়ালা/আরডি