খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত মাত্র পাঁচ মাসেই দেশে ১৪১টি মব হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫২ জন, আহত হয়েছেন অন্তত ২৮৯ জন। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরা, ধানমণ্ডি ও বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া আলোচিত মব সহিংসতা এই প্রবণতার ভয়াবহতা স্পষ্ট করছে। উত্তরায় আবাসিক হোটেল দখলের চেষ্টা কিংবা সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদাকে জনসমক্ষে জুতার মালা পরিয়ে অপমানের মতো ঘটনা সামাজিক সহিংসতার মাত্রা কতটা গভীরে পৌঁছেছে, তা জানান দেয়।
পরিসংখ্যানে জচানা যায়, জানুয়ারি মাসে ২১টি ঘটনায় ১২ জন নিহত, ৩৮ জন আহত, ফেব্রুয়ারি মাসে ৮ জন নিহত, ৩৪ জন আহত, মার্চ মাসে ৩৯টি ঘটনায় ১৩ জন নিহত, ৯৬ জন আহত, এপ্রিল মাসে ২৭টি ঘটনায় ১০ জন নিহত, ৫৩ জন আহত, মে: ৩৬টি ঘটনায় ৯ জন নিহত, ৬৮ জন আহত।
পুলিশের মিডিয়া বিভাগের এআইজি ইনামুল হক সাগর জানান, মব সহিংসতায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরেই এখনও নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা কাটেনি, যার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে পুলিশ।
সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “এটি পরিকল্পিত সহিংসতার রূপ নিচ্ছে। বিবৃতি দিয়ে নয়, সরকারের উচিত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”
আইন ও সালিশ কেন্দ্রসহ একাধিক মানবাধিকার সংস্থা মব সন্ত্রাসকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তারা মনে করে, এই সহিংসতার দায় সরকার এড়াতে পারে না।
বারবার হুঁশিয়ারি, কঠোর বিবৃতি গ্রেফতারেও বন্ধ হচ্ছে না জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতা। প্রতিদিনের মত ছোট কোনো ঘটনা মুহূর্তে রূপ নিচ্ছে প্রাণঘাতী সহিংসতায়। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, মবকে মবের মতোই নয়, আইন দিয়ে থামাতে হবে—না হলে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আস্থাহীনতা বাড়বে, এবং ভবিষ্যতে এর ভয়াবহতা হবে আরও মারাত্মক।
খবরওয়ালা/এমএজেড