খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
দিনকে দিন ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন যেন আরও বাড়ছে। গাজায় তাদের বর্বরতা প্রতিদিনই নতুন রেকর্ড গড়ছে। প্রথমে খাবার দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে, পরে ত্রাণকেন্দ্রে ডেকে নিয়ে নির্বিচারে গুলি ও বোমা বর্ষণ করে নিরস্ত্র-অভুক্ত ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা-সমালোচনার মুখেও গত দুদিনে ত্রাণ নিতে যাওয়া ৪৫ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে নেতানিয়াহুর বাহিনী। বার্তা সংস্থা এপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধ ও বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলায় গাজাজুড়ে কমপক্ষে ৯৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবুর ওপর চালানো হামলায় একই পরিবারের ১৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জনই শিশু।
মধ্য গাজাতেও হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে কমপক্ষে আটজন নিহত হয়েছেন। গাজা সিটির আরেকটি স্কুলে, যেখানে বাস্তুচ্যুতরা আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেখানে বিমান হামলায় কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছেন বলে হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
তবে, সবচেয়ে বড় ও নৃশংস হামলাগুলো চালানো হচ্ছে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ইসরায়েল ও মার্কিন সমর্থিত বিতর্কিত মানবিক সংগঠন গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত ত্রাণকেন্দ্রের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করলেই ফিলিস্তিনিদের ওপর নিয়মিতভাবে গুলি চালায় ইসরায়েলি সেনারা। এছাড়াও, গাজার সেনাবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যখন মানুষজন জাতিসংঘের ট্রাক ঢোকার অপেক্ষায় ভিড় করে, তখনও একেবারেই অকারণে তাদের ওপর গুলি চালানো হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত এই বিতর্কিত মানবিক সংস্থার বিরুদ্ধে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘ক্ষুধা’কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ইসরায়েল এখনো ক্ষুধাকে যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যা চলমান গণহত্যারই অংশ।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ভাষ্য অনুযায়ী, জিএইচএফের ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থা আসলে আন্তর্জাতিক চাপ সামাল দেওয়ার জন্য তৈরি। সংস্থাটি বলছে, ইসরায়েল জাতিসংঘের মাধ্যমে আলাদা করে বিতরণ করা খাবার খুব অল্প পরিমাণে ঢুকতে দিচ্ছে, যাতে সবাইকে ইসরায়েলের জিএইচএফের ত্রাণকেন্দ্রেই যেতে বাধ্য হতে হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, “ইসরায়েল এমন একটি সামরিক নিয়ন্ত্রিত ত্রাণ ব্যবস্থা চালু রেখেছে, যেটা মূলত অকার্যকর, অমানবিক এবং বিপজ্জনক। এটি মূলত ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি ফাঁদ।”
এদিকে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অ্যামনেস্টির এই প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, অ্যামনেস্টি হামাসের সঙ্গে এক হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে।
খবরওয়ালা/টিএস