খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ, ধর্মান্তর এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা হ্রাস—এই তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে ঝাড়খণ্ডে তিন বছরব্যাপী বৃহৎ পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছে ভারতের বিজেপি। রাজ্যের প্রতিটি মহকুমায় পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন করে ঝাড়খণ্ডের প্রান্তিক ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় এই যাত্রা চলবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ-১৮ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শুক্রবার (৪ জুলাই) পদযাত্রার ঘোষণা দেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা ও গড্ডা আসনের সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। পদযাত্রায় তাঁর সঙ্গে থাকবেন রাজ্যের প্রবীণ নেতা চম্পাই সরেন ও বিজেপির রাজ্য শাখার সভাপতি বাবুলাল মারান্ডি। এ ছাড়া আদিবাসী বিপ্লবী সিধু-কানহুর বংশধর এবং সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া মণ্ডল মুর্মুও এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
বিজেপির অভিযোগ, ঝাড়খণ্ডে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ক্রমেই বাড়ছে এবং রাজ্য সরকার এ বিষয়ে নিশ্চুপ থেকে কার্যত এর পৃষ্ঠপোষকতা করছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি তাঁর ভাষণে ‘রুটি, বেটি ও মাটি’—এই তিনটি উপাদানের মাধ্যমে আদিবাসীদের জীবিকা, নারী নিরাপত্তা ও ভূমি অধিকারের বিষয়টি তুলে ধরেন।
বিজেপির দাবি, দলটি আদিবাসী কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ও ছত্তিশগড়—এই তিন রাজ্যে ইতোমধ্যে নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বীরসা মুন্ডার জন্মদিনকে ‘জনজাতীয় গৌরব দিবস’ হিসেবে পালন এবং দ্রৌপদী মুর্মুর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়াকে বিজেপি আদিবাসী নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছে।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই দীর্ঘ পদযাত্রার মাধ্যমে বিজেপি সরাসরি গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগণের কাছে পৌঁছাতে চায়। একই সঙ্গে তারা একটি রাজনৈতিক বার্তা দিতে চায়—ঝাড়খণ্ডে এমন একটি সরকার প্রয়োজন, যারা আদিবাসী স্বার্থ রক্ষা করবে, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাবে এবং তথাকথিত মাফিয়া-নিয়ন্ত্রিত রাজনীতিকে নির্মূল করবে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে ঝাড়খণ্ড রাজ্যে ক্ষমতায় আছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা ও ইন্ডিয়া জোট। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হেমন্ত সরেন।
খবরওয়ালা/এন