খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে ভারতের দিল্লি ও কলকাতার প্রচারমাধ্যমগুলো পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। তাঁর ভাষায়, এসব প্রচারমাধ্যম অনবরত ‘ড. ইউনূসকে বরখাস্ত করছে, ছুটি দিচ্ছে, বিদায়ের ঘণ্টা বাজাচ্ছে এবং তাঁর জায়গায় শেখ হাসিনাকে বসাচ্ছে’। অথচ ইউনূসের পক্ষ নিয়ে কথা বলার মতো কেউ নেই— ‘দুই-একজন ইউটিউবার’ ছাড়া।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) ‘ইউনূস সরকারের ছুটির ঘণ্টা! কলকাতা-দিল্লি থেকে সমানে বাজছে! আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন!’ শিরোনামে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে এসব কথা বলেন তিনি।
গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘বাস্তবতা হলো—তাদের এই মিথ্যা কথা, যুক্তি ও উপস্থাপনা অনেকেই বিশ্বাস করছে। এতে মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে, যা রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রার জন্য বিরাট হুমকি।’
ড. ইউনূসের রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সাবেক এই সাংসদ। তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূসের সরকার কতদিন ক্ষমতায় থাকতে চায়? সামনে যে নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে, সরকার কি আসলেই আন্তরিকভাবে সেই নির্বাচন দিতে চাচ্ছে? ইউনূস তাঁর মদদে যেসব দল তৈরি করেছেন (এনসিপিসহ ৫০ থেকে ৬০টি); যাদেরকে বলা হয় কিংস পার্টি; কিংস পার্টির ফাদার হিসেবে তিনি বড় বড় ৩ থেকে ৪টি দল তৈরি করেছেন। তারা বিএনপি বা আওয়ামী লীগের মতো এত বড় দল নয়; কিন্তু সারা দেশে তাদের রাজনৈতিক তৎপরতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা আছে। কয়েকটি অভিজ্ঞ ও পুরনো দল এসব কিংস পার্টিকে ডানে থেকে বামে থেকে সাপোর্ট দিচ্ছে। ড. ইউনূসের রাজনৈতিক প্লানের ডানদিকে জাতীয় পার্টি আর বামদিকে কমিউনিস্ট পার্টি।’
আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা পর্দার সামনে দেখতে পাচ্ছি, আওয়ামী লীগের ওপরে খুব জুলুম-অত্যাচার হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—আওয়ামী লীগের অনেক লোক সারা দুনিয়াতে ছড়িয়ে গেছে। তারা আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনকে অস্থির করে তুলেছে। একজন তরুণ বিতর্কিত সঙ্গীতশিল্পী বলছিলেন, টাকার চেয়ে আকর্ষণীয় কোনো হিরোইজম নেই। আমাদের বীরত্বের বড় মাপকাঠি হলো টাকা।’
তাঁর ভাষায়, ‘এই মুহূর্তে বাংলাদেশের লোকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ রয়েছে আওয়ামী লীগের লোকদের। তারা কেউ পালিয়ে আছেন, কেউ পালাননি। কিন্তু টাকা তাদের হাতে আছে। আর সেই টাকার পেছনে পঙ্গপালের মতো ছুটছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা!’
আওয়ামী লীগের অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকদের যে অনেকগুলো ফাইভস্টার হোটেল ছিল, অনেকগুলো টিভি চ্যানেল ছিল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল, ব্যাংক ছিল—এর একটি জায়গাতেও দলটির স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়নি। এস আলম, সামিট কিংবা ভারতের আদানি—এসব জায়ান্ট কম্পানিগুলো আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে নব্য রাজনীতিকদের বেশি ঘোরাচ্ছে। এর ফলে দেখা যায়, আওয়ামী দোসর এসব প্রতিষ্ঠানে নেতাদের সন্তানরা ঘুরছে। অনেকে আওয়ামী দোসরদের সঙ্গে দেখা করার জন্য সিঙ্গাপুর, ব্যাংক, দুবাইতে ছুটাছুটি করছে। এই যদি হয় আওয়ামী অর্থনীতির অবস্থা, তাহলে আওয়ামী রাজনীতির অবস্থা খুব কি খারাপ?’
গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘আমরা যারা ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সাদাকে সাদা বলছি, তারা দেখছি—আম ও দুধ একসঙ্গে মিশে গেছে। রাজনীতির এই ঘূর্ণিপাকে সবচেয়ে বিপদে আছেন ড. ইউনূস ও তাঁর ঘনিষ্ঠজন।’
খবরওয়ালা/এন