খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫
তুরস্কের তিনটি প্রধান শহরের মেয়রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (৫ জুলাই) পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এটি গত মার্চে ইস্তানবুলের মেয়রকে কারাদণ্ড দেওয়ার পর বিরোধী নেতাদের দমন-পীড়নের সর্বশেষ উদাহরণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এবং দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, আদিয়ামান শহরের মেয়র আবদুর রহমান তুতদেরে এবং আদানা শহরের মেয়র জেইদান কারালারকে শনিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা দুজনেই দেশটির প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি)-এর নেতা।
এছাড়া আন্টালিয়া শহরের মেয়র মুহিতিন বোসেককেও ঘুষ সংক্রান্ত একটি আলাদা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আনাদোলু জানায়, তাকে আরও দুই সন্দেহভাজনের সঙ্গে আটক করেছে আন্টালিয়ার প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটরের দপ্তর।
জেইদান কারালারকে গ্রেপ্তার করা হয় ইস্তানবুল থেকে, এবং আবদুর রহমান তুতদেরেকে আটক করা হয় রাজধানী আঙ্কারায়। পরে তুতদেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, তাকে ইস্তানবুলে নেওয়া হচ্ছে।
ইস্তানবুলের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের অধীনে পরিচালিত এই অভিযানে তুতদেরে ও কারালারসহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, তারা ঘুষ, দুর্নীতি ও দরপত্রে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
তবে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সিএইচপি নিয়ন্ত্রিত পৌরসভাগুলোর একাধিক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করার ধারাবাহিকতায় এই অভিযান পরিচালিত হলো, যা বিরোধীদের দমন করতেই করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের দীর্ঘ ২২ বছরের শাসনের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইস্তানবুলের মেয়র একরেম ইমামোগলু। দুর্নীতির অভিযোগে গত মার্চে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
সিএইচপি নেতারা ২০২৫ সালে বারবার গ্রেপ্তারের শিকার হচ্ছেন, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছে বিরোধী দল। যদিও সরকার বলছে, বিচার বিভাগ এবং প্রসিকিউটররা স্বাধীনভাবে তাদের কাজ করছে, তাই এসব গ্রেপ্তারের পর রাস্তায় বিক্ষোভ করা আইনসম্মত নয়।
সূত্র: এপি, দ্য টাইমস অব ইসরায়েল
খবরওয়ালা/আরডি