খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে আষাঢ় ১৪৩২ | ৫ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভারতে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটজাত পণ্যের ওপর আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক পুনর্মূল্যায়ন করে তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন দেশটির স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, পণ্যের রপ্তানিমূল্য হ্রাস পাওয়ায় বর্তমানে কার্যকর শুল্ক যথেষ্ট নয়, বরং তা দেশীয় শিল্পের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।
এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমিডিজ (ডিজিটিআর) বাংলাদেশ ও নেপালের পাটজাত পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্কের মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা শুরু করেছে।
ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই-এর খবরে বলা হয়, জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন এবং এপি মেস্টা টোয়াইন মিলস অ্যাসোসিয়েশন নামে দুই ব্যবসায়ী সংগঠন এই পর্যালোনার আবেদন করে।
উল্লেখ্য, অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক হলো অতিরিক্ত আমদানি কর, যা সেইসব পণ্যের ওপর আরোপ করা হয়—যেগুলো উৎপাদনকারী দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে আমদানি হয়ে থাকে। এই শুল্কের মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় শিল্পকে অন্যায্য প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা করা।
২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ভারত বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাটজাত পণ্যের ওপর ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার পর্যন্ত টনপ্রতি অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছিল, যা পাঁচ বছরের জন্য কার্যকর ছিল। পরে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে সেই মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানো হয়।
অন্যদিকে, নেপাল থেকে আসা পাটজাত পণ্যের ওপর প্রাথমিকভাবে ১২.৫ শতাংশ কাউন্টারভেইলিং ডিউটি (সিভিডি) আরোপ করা হয়। যদিও পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হলেও বর্তমানে ২ থেকে ৪ শতাংশ হারে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক বহাল আছে।
ভারতীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ও নেপালের পাটজাত পণ্যের রপ্তানিমূল্য অনেকটাই কমে গেছে, যার ফলে বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো আর যথেষ্ট নয়। ফলে ভারতের পাটশিল্প ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ কারণে শুল্ক পুনর্মূল্যায়ন করে তা আরও বাড়ানোর জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তাঁরা।
ভারতের এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশি পাটশিল্প নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। কারণ, ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বড় পাটপণ্য আমদানিকারক দেশ। এই বাজারে প্রবেশ ব্যয় বাড়লে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন রপ্তানিকারকরা।
খবরওয়ালা/আরডি