খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদের অপসারণ ও সব পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়াসহ ৬ দফা দাবিতে জেলায় চলছে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ভোর ৬টা থেকে এই ধর্মঘটের ডাক দেন পরিবহন শ্রমিকরা।
এদিকে পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সিলেটে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বাস চলাচলসহ অন্য যানবাহন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। অনেককে গন্তব্যে যেতে রেল স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তবে নগরীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ সকল ধরনের যান চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক।
সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম বলেন, সিলেটের গণপরিবহন-পণ্যপরিবহন ও পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মালিক শ্রমিকরা বিভিন্নভাবে বঞ্চিত ও অবহেলিত।
সিন্ডিকেটের রোষানলে পড়ে সিলেটের কোটি মানুষের ওপর নেমে আসে দুর্ভোগ। সিলেটের সব পাথর কোয়ারি ২০১৮ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে লাখ লাখ কর্মহীন মানুষের কারণে সিলেটে দুর্ভিক্ষাবস্থা বিরাজ করছে। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
এর আগে সোমবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয় সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্যপরিষদ।
তাদের ৬ দাবি হলো- সড়ক পরিবহন আইন ২-১৮ এর ৩৬ ধারা প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার বাস মিনিবাসের ক্ষেত্রে ২০, ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যানের ক্ষেত্রে ১৫ ও সিএনজি ইমা ও লেগুনার ক্ষেত্রে ১৫ বছর ইকোনোমিক লাইফ নির্ধারণ করার প্রজ্ঞাপন বাতিল।
সিলেটের সব পাথর কোয়ারির ইজারা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও সনাতন পদ্ধতিতে বালু মহাল এবং পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া, বিআরটিএ কর্তৃক গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র বাতিল ও গণপরিবহনের ওপর আরোপিত বর্ধিত ট্যাক্স প্রত্যাহার, সিলেটের সব ক্রাশার মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ বন্ধ, বিদ্যুতের মিটার ফেরত ও ভাঙচুর করা মিলের ক্ষতিপূরণ এবং গাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া পাথর-বালুর ক্ষতিপূরণ, সিলেটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে প্রত্যাহার এবং বালু পাথরসহ পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের হয়রানি না করা।
খবরওয়ালা/এমইউ