খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
দেশের তিন জেলার সীমান্ত দিয়ে ৩৮ জনকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ভোরে বিজয়পুর, দুর্গাপুর এবং কামালপুর সীমান্ত দিয়ে তাদের পুশইন করা হয়। পরে তাদের আটক করে পুলিশে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর সীমান্ত দিয়ে ২১ জনকে ঠেলে পাঠায় বিএসএফ। তাদের মধ্যে ১৯ জন তৃতীয় লিঙ্গের ও দুইজন পুরুষ।
বিএসএফ বিজয়পুর বিওপির ১১৪৮/৪ এস থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আড়াপাড়া এলাকায় তাদের ঠেলে দিলে আটক করে বিজিবি। আটককৃতদের বাড়ি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজবাড়ী, পটুয়াখালী, মৌলভীবাজার, জামালপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও টাঙ্গাইলে।
নেত্রকোনা ৩১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম কামরুজ্জামান বলেন, তারা ৬ মাস থেকে ১২ বছর আগে কাজের সন্ধানে ভারতের দিল্লি গিয়েছিলেন। তাদের সেখানকার বিভিন্ন এলাকা থেকে একত্র করে বুধবার দিল্লির নাজিরাবাদ বিমানবন্দর দিয়ে উড়োজাহাজে আসামে আনা হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে বিজয়পুর সীমান্ত দিয়ে তাদের পুশইন করে বিএসএফ। তাদের দুর্গাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে পুশইন করে বিএসএফ। পরে তাদের আটক করে পুলিশে দিয়েছেন দুর্গাপুর বিওপি ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা।
আটককৃত সবাই সনাতন ধর্মাবলম্বী। তাদের মধ্যে চার শিশু, তিন নারী ও তিন পুরুষ রয়েছেন। লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তিরা নিজেদের কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছেন। তারা জানান, প্রায় ১০ বছর আগে কাজের সন্ধানে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে যান। সেখান থেকে বিএসএফ তাদের ধরে সীমান্ত পথে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে।
বকশীগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, জামালপুরের বকশীগঞ্জের ধানুয়া কামালপুর সীমান্ত দিয়ে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে সাতজনকে পুশইন করেছে বিএসএফ। পরে তাদের আটক করে বিজিবি। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, তাদের বাড়ি বাগেরহাট, ফরিদপুর, খুলনা ও বরগুনা জেলায়। ২০২১ সালে করোনাকালে ভারতে যান তারা। সবাই দিল্লিতে থাকতেন। বকশীগঞ্জ থানার ওসি খন্দকার শকের আহাম্মেদ বলেন, সাতজনকে থানায় হস্তান্তর করেছে বিজিবি।
সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, বিএসএফ ভারতের নাগরিক ও রোহিঙ্গাদেরও বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। পুশইনের শিকারদের মধ্যে বেশির ভাগই বাংলাদেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভারতের কিছু নাগরিক ও রোহিঙ্গাকেও তারা জোর করে পাঠিয়ে দিচ্ছে। শুরু থেকে আমরা এর কড়া প্রতিবাদ করে আসছি।’
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের বীরউত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে ১০৩তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে অংশ নেন বিজিবি মহাপরিচালক। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
খবরওয়ালা/এমইউ